রোববার সকালে তিন নেতাকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার কথা ছিল। পুলিশের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাঁদের তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আটক রাখা হয়েছে তাঁদের।
অন্যদিকে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আগে গুরুগ্রামে নিজের বাড়ি থেকে আটক ধ্রুব রাঠীকে রোববার রাত ৩টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
উড়োজাহাজ থেকে আটক তিন নেতা
শনিবার মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানো এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ থেকে সিজেপির তিন নেতাকে আটক করে পুলিশ। উড়োজাহাজটি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই পুলিশ সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করেন। যাত্রীদের সামনেই তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় কয়েকজন যাত্রী মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
ভিডিওতে অভিজিৎ দিপকেকে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়ার জন্যই দিল্লিতে এসেছেন। সিজেপির পক্ষ থেকে এই আটকের সমালোচনা করা হয়েছে।
দলের আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিন নেতাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার কথা রয়েছে। তাঁদের আইনি সহায়তা দিতে দলের আইনজীবীরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানান তিনি।
আবারও বিক্ষোভের ডাক
সিজেপির তিন নেতা হেফাজতে থাকলেও রোববার সকাল ১০টায় দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেয় দলটি। ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে তারা। তবে ভোটার তালিকা নিয়ে দলটির অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা যায়নি।
বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে দিল্লি পুলিশ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। সিজেপির সঙ্গে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও (আইসা) বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা
বিক্ষোভ ঠেকাতে শনিবার দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশের অভিযানে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়; তাঁদের অনেককে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও গণপরিবহন ব্যাহত হয়। কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। জনপথ ও কর্তব্যপথ এলাকার আশপাশে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও স্থগিত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার রাতে বন্ধ থাকা মেট্রো স্টেশনগুলোর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আবার খুলে দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিক্ষোভের অধিকার এবং পুলিশের নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ—এই তিনটি বিষয় ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।