চোখের স্থায়ী ক্ষতির ক্ষেত্রে স্ক্রিনের নীল আলো নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কার কারণ নেই। তবে রাতের ঘুমের ক্ষেত্রে এর প্রভাব থাকতে পারে। রাতে দীর্ঘ সময় ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করলে নীল আলো মেলাটোনিনের নিঃসরণে বাধা দিতে পারে। এতে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ ব্যাহত হয় এবং ঘুম আসতে দেরি হতে পারে।
ব্লু-লাইট চশমা কতটা কার্যকর?
ব্লু-লাইট ব্লকিং চশমা চোখের ক্লান্তি বা চোখের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় এমন শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অপথ্যালমোলজিও চোখের সুরক্ষার জন্য এ ধরনের চশমাকে অপরিহার্য মনে করে না। তাই কেউ ব্যবহার করে আরাম পেলে ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু এটিকে চোখের বিশেষ চিকিৎসা বা সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
তাহলে স্ক্রিন দেখলে চোখে অস্বস্তি হয় কেন?
এর পেছনে রয়েছে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেন’। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারে কম পলক ফেলা, চোখের পেশির ওপর চাপ, অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা, ঘরের অপর্যাপ্ত আলো, ভুল দূরত্ব বা স্ক্রিনের অবস্থান এবং ভুল পাওয়ারের চশমা সব মিলিয়ে এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। এর ফলে চোখে শুষ্কতা, ক্লান্তি, জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা কিংবা সাময়িকভাবে ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কীভাবে চোখের চাপ কমাবেন?
এক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ অভ্যাসগুলোর একটি হলো ২০-২০-২০ নিয়ম। প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকান। পাশাপাশি কাজের সময় নিয়মিত পলক ফেলুন, পর্যাপ্ত আলো ব্যবহার করুন এবং স্ক্রিন চোখের সমতলের সামান্য নিচে রাখুন। প্রয়োজন হলে চোখ পরীক্ষা করে সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করাও জরুরি। ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার না করাই ভালো। প্রয়োজনে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে নিতে পারেন।
সবশেষে, স্ক্রিনের নীল আলো নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে কতক্ষণ এবং কীভাবে স্ক্রিন ব্যবহার করছেন, সেদিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী, চোখের অস্বস্তির বড় কারণ নীল আলো নয়; বরং দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস।