calendar_today বৃহস্পতিবার, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ • ৫ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নওগাঁয় শিক্ষার্থী নিহত ◆ পোশাকশ্রমিকরা কাজে ফিরছেন ◆ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব: বিশ্ববাজারে টানা চার দিন কমল জ্বালানি তেলের দাম ◆ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বক্তব্যের জের: নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ ◆ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার মহোৎসব: উজিরপুর উপজেলায় তোলপাড় ◆ দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৫৪৮২ টাকা ◆ ইরানকে সহায়তার দায়ে ভারত ও তুরস্কের একাধিক কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ◆ মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চলে তৈরি হবে জ্বালানি অবকাঠামো, প্রধানমন্ত্রী ◆ জামজামী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পলাশ আহমেদকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ◆ গবেষণা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা: অধ্যাপক মতিনুর রহমানের নেতৃত্বে ইবির নতুন উদ্যোগ ◆ ‘জেন-জিদের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি’: মাহমুদুর রহমান ◆ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি, উদ্বিগ্ন এইচআরডব্লিউ
home হোম / অর্থনীতি / ধার করে চলছে অনেক ব্যাংক , টাকার সংকট
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
অর্থনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

ধার করে চলছে অনেক ব্যাংক , টাকার সংকট

তারল্য সংকটে পড়ে এখন ধার করে চলছে অনেক ব্যাংক। দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে এক ব্যাংক আরেক ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ধার নিচ্ছে। গত বুধবার ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি ধারের স্থিতি দাঁড়ায় ৪৪ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা।...

person
স্টাফ রিপোর্টার verified
Junior Reporter
schedule প্রকাশ: শনিবার, ২৬ আগস্ট ২০২৩ • সকাল ১১:৪২
history আপডেট: ৩ বছর আগে
timer ৭ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১১৬ বার পঠিত

আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে ব্যাংকগুলো এক দিন মেয়াদি কলমানি ছাড়াও ৩৬৫ দিন পর্যন্ত মেয়াদি ধার নেয়। এসব ধার নিয়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত সুদ গুনতে হয়। আর বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত ১, ৭, ১৪ ও ২৮ দিন মেয়াদি ধার দেয়। বর্তমানে যার সুদহার সাড়ে ৬ থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ। গত বুধবার ১৩টি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার করেছে। এ ছাড়া আন্তঃব্যাংক ধারের ক্ষেত্রে ১৪৯টি লেনদেন হয়েছে। বেশ কয়েকটি ব্যাংক এতে অংশ নেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো রেপোসহ বিভিন্ন উপায়ে ধার করেছে ৩ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ওই দিন ধারের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। বুধবার আন্তঃব্যাংকে ধারের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ওই দিন পর্যন্ত আন্তঃব্যাংকে ধারের স্থিতি ছিল ১৮ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা। অবশ্য বর্তমানের তারল্য সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত অর্থবছর বেশ কয়েকটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে। শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে দেড় শতাংশ সুদে এসব তহবিল থেকে অর্থ পাচ্ছে ব্যাংক। তবে পুনঃঅর্থায়নে তেমন সাড়া নেই। ঝামেলা বিবেচনায় এসব তহবিলে আগ্রহ দেখায় না বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে রিজার্ভ থেকে গত দুই বছরে ২৩ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এর বিপরীতে বাজার থেকে উঠে এসেছে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আবার উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে খরচ মিটিয়ে সঞ্চয় করার মতো টাকা থাকছে না। এতে করে গত জুন পর্যন্ত আমানত বেড়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আবার গত অর্থবছর সঞ্চয়পত্র কেনার চেয়ে বেশি ভাঙিয়েছেন ৩ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে আস্থাহীনতার কারণে কিছু ব্যাংক থেকে টাকা তুলে কাছে রাখছেন অনেকে। বেশি লাভের আশায় অনেকে আবার এমএলএম বা অবৈধ ফরেক্স ট্রেডিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এ রকম অবস্থায় ব্যাংকগুলো ধার বাড়িয়েছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষক ও বেসরকারি সিটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক মঈনউদ্দীন সমকালকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মেয়াদি ঋণে খেলাপি হওয়ার সময় বাড়িয়েছে। এ কারণে যথাসময়ে টাকা ফেরত আসছে না। ফলে তারল্য সংকট হবে– এটাই স্বাভাবিক। অথচ নির্বাচনের আগে সব সময়ই বিনিয়োগে স্থবিরতা থাকে। এ সময় ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত টাকা পড়ে থাকার কথা। অথচ ব্যাংকগুলো এখন তারল্য সংকটে ভুগছে।

ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটের বিষয়টি উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে। গত ব্যাংকার্স সভায় উত্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য কমে ৩ হাজার ৯০৯ কোটি টাকায় নেমেছে। এক বছর আগেও যা ২ লাখ ৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা ছিল। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সিআরআর ও এসএলআর রাখার পর যে অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে, তা অতিরিক্ত তারল্য হিসেবে বিবেচিত। সামগ্রিক খাতে উদ্বৃত্ত অর্থ এত কমার মানে অনেক ব্যাংক চরম সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে শরিয়াহ্ভিত্তিক পরিচালিত পাঁচটি ব্যাংক নিয়মিত সিআরআর রাখতে ব্যর্থ হয়ে জরিমানায় পড়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হাতে রাখছেন অনেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত এক বছরে মানুষের হাতে টাকা বেড়েছে ৫৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা, বা ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জুন পর্যন্ত মোট প্রচলনে থাকা টাকার পরিমাণ উঠেছে রেকর্ড ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকায়। এর মধ্যে মানুষের হাতে ছিল ২ লাখ ৯১ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে প্রচলনে থাকা ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫২০ কোটি টাকার মধ্যে মানুষের হাতে ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য নগদ টাকার প্রয়োজন হয়। একইভাবে দৈনন্দিন কেনাকাটা, বাড়ি ভাড়া, বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধসহ নানা কারণে একটি অংশ সব সময় মানুষ নগদে কাছে রাখে। জিনিসের দর বাড়লে ব্যবসা বা ব্যক্তি টাকা রাখার প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। এর বাইরে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষ নগদে হাতে রাখে। আবার হুন্ডিতে প্রবাসী আয় বাড়লে তখনও নগদ টাকা বাড়ে।

tag ট্যাগ: #1111