calendar_today শুক্রবার, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ • ৬ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নওগাঁয় শিক্ষার্থী নিহত ◆ পোশাকশ্রমিকরা কাজে ফিরছেন ◆ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব: বিশ্ববাজারে টানা চার দিন কমল জ্বালানি তেলের দাম ◆ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বক্তব্যের জের: নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ ◆ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার মহোৎসব: উজিরপুর উপজেলায় তোলপাড় ◆ দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৫৪৮২ টাকা ◆ ইরানকে সহায়তার দায়ে ভারত ও তুরস্কের একাধিক কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ◆ মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চলে তৈরি হবে জ্বালানি অবকাঠামো, প্রধানমন্ত্রী ◆ জামজামী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পলাশ আহমেদকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ◆ গবেষণা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা: অধ্যাপক মতিনুর রহমানের নেতৃত্বে ইবির নতুন উদ্যোগ ◆ ‘জেন-জিদের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি’: মাহমুদুর রহমান ◆ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি, উদ্বিগ্ন এইচআরডব্লিউ
home হোম / অর্থনীতি / আদায় ১৫ লাখ ৪০০ কোটির লক্ষ্যে
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
অর্থনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

আদায় ১৫ লাখ ৪০০ কোটির লক্ষ্যে

অবলোপন করা ঋণের টাকাও আদায় হচ্ছে না। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে শীর্ষ ১৯ ঋণ অবলোপনকারী এক টাকাও পরিশোধ করেনি। ফলে দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে সোনালী ব্যাংক। একদিকে শীর্ষ ২০ অবলোপনকারী ব্যাংক থেকে নিয়ে গেছে ২৭০০ কোটি টাকা। এরা...

person
বাংলার ডাক verified
Staff reporter
schedule প্রকাশ: সোমবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২২ • বিকাল ০৪:৫৮
history আপডেট: ৩ বছর আগে
timer ৮ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১১৪ বার পঠিত

জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আফজাল করিম  বলেন, শীর্ষ ২০ অবলোপনকারী থেকে আদায় খুব বেশি নেই। তবে অন্যান্য অবলোপন থেকে আদায় হচ্ছে। আমি নতুন এসেছি। এসেই ১০০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে খেলাপি এবং অবলোপন থেকে আদায়ে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণ লুকিয়ে রাখার সহজ এবং বৈধ পথ ঋণ অবলোপন। এতে ব্যাংকের স্বাস্থ্য ভালো দেখালেও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক প্রতারিত হন। কারণ গ্রাহক ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারেন না।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, শীর্ষ ১৯ ঋণ অবলোপনকারী থেকে ৯ মাসে এক টাকাও আদায় নেই, এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এতে করে ব্যাংকটি দুর্বল হয়ে যাবে। বিপুল অঙ্কের নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে হবে। ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যাবে। এসব খেলাপি বা ঋণ অবলোপনকারীর কোনো জামানত থাকলে তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বড় ঋণখেলাপি বা অবলোপনকারীরা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তাই তারা এ টাকা ফেরত দিতে চান না। অথচ তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সবই চলছে। গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডিতে আলিশান বাড়ি। চড়েন দামি গাড়িতে। ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেন বিদেশে। দেশের বাইরে ভ্রমণ করেন বিমানের বিজনেস ক্লাসে। শুধু ব্যাংকের টাকা দিতে পারে না। এরা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি। টাকা আদায় করতে হলে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির সব সম্পদ কেড়ে নিতে হবে। সব অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করতে হবে। এক কথায়-কঠোর শাস্তি ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায় হবে না। এছাড়া আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আবার বেরিয়ে যাবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। শীর্ষ ১৯ ঋণ অবলোপনকারী থেকে ৯ মাসে এক টাকাও কেন আদায় হলো না। তাদের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।

জানা গেছে, টানা তিন বছর যে খেলাপি ঋণ আদায় করা সম্ভব হয় না। সে ঋণকে ব্যাংকের লেজার বুক থেকে বাদ দিয়ে অন্য একটি জায়গায় সংরক্ষণ করা হয়। একে ঋণ অবলোপন বলে। অবশ্য এর আগে অর্থঋণ আদালতে একটি মামলা এবং অবলোপন করা ঋণের ওপর শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ ২০ ঋণ অবলোপনকারীর মধ্যে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল করপোরেট শাখার গ্রাহক মেসার্স হলমার্ক গ্রুপের কাছে পাওনা ১২২৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। চলতি বছর আদায়ের লক্ষ্য ছিল ১৮৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে এক টাকাও ফেরত আসেনি। নারায়ণগঞ্জ করপোরেট শাখার ৭টি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের (মেসার্স নিউ রাখী টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ১২৩ কোটি, মেসার্স সাহিল ফ্যাশন লিমিটেড ৮১ কোটি, মেসার্স ইউনিটি নিটওয়্যার লিমিটেড ৭১ কোটি, মেসার্স কেপিএফ টেক্সটাইল লিমিটেড প্রায় ৬৯ কোটি, মেসার্স মুন নিটওয়্যার প্রায় ৬৮ কোটি, মেসার্স সাহিল নিটওয়্যার লিমিটেড প্রায় ৫৮ কোটি এবং মেসার্স রানস অ্যাপারেলস ৪৭ কোটি টাকা) কাছে পাওনা ৫১৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৯ মাসে ৬ প্রতিষ্ঠান এক টাকাও ফেরত দেয়নি। বাকি মেসার্স রানস অ্যাপারেলস ১৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখার দুই (মেসার্স জাসমির ভেজিটেবল অয়েল ১০৬ কোটি ও মেসার্স ইমাম ট্রেডার্সের ৮১ কোটি টাকা) গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা ১৮৭ কোটি টাকা। গত ৯ মাসে এক টাকাও ফেরত আসেনি। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের লালদীঘি করপোরেট শাখার গ্রাহক মেসার্স সিদ্দিক ট্রেডার্সের কাছে পাওনা ৬৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কোনো টাকা ফেরত আসেনি। স্থানীয় কার্যালয়ের চার (মেসার্স ওয়ান স্পিনিং মিল ৯৪ কোটি, মেসার্স এ আর খান সাইজিং অ্যান্ড ফেব্রিকস ৬৫ কোটি ৫০ লাখ, যাদু স্পিনিং মিল ৫০ কোটি, মাস্ক সুয়েটার ৪৯ কোটি) গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা ২৫৮ কোটি ৫০ লাখ এবং ঢাকার রমনা করপোরেট শাখার দুই (মেসার্স ফেয়ার এক্সপো ৯৬ কোটি ৩০ লাখ ও মেসার্স সুমি’স সোয়েটার ৭৬ কোটি টাকা) গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা ১৭২ কোটি টাকা। গত ৯ মাসে এক টাকাও ফেরত আসেনি। এছাড়া যশোর করপোরেট শাখার গ্রাহক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলফা টোব্যাকো ৯৬ কোটি, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ করপোরেট শাখার গ্রাহক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইম্পেরিয়াল ডাইয়িং অ্যান্ড হোসিয়ারি ৮৯ কোটি এবং ফরিদপুর করপোরেট শাখার গ্রাহক মেসার্স রোকেয়া টেক্সটাইল মিলসের কাছে পাওনা প্রায় ৮৩ কোটি টাকা। গত ৯ মাসে এসব শীর্ষ ঋণখেলাপি এক টাকাও ফেরত দেয়নি।

tag ট্যাগ: #111