শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ঘোষিত বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হন এই তিন নেতা। বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বাই হয়ে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই আটক করা হয়েছিল।
রোববার তাঁদের দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁরা মুক্তি পান। মুক্তির পর সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের জানান, রোববার বেলা দুইটায় তাঁদের সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রতিবাদ চলবে।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অজিঙ্ক শিন্ডে জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। রোববারও যন্তর মন্তরের দিকে পদযাত্রা ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সিজেপি জানায়, তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবে না। পরদিন আবার যন্তর মন্তরের দিকে পদযাত্রা করে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানায় দলটি।
দিল্লিতে ব্যাপক আটক ও নিরাপত্তা বিধিনিষেধ
শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিক্ষোভকারী, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের আটক করে পুলিশ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির সংখ্যা সাত হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মানিক সরকারও ছিলেন। পরে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এসব পদক্ষেপের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও জনজীবন ব্যাহত হয়।
তবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও আইটিও, সফদরজং ফ্লাইওভার ও দিল্লি হাটসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান।
রোববারও যান চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা
দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে রোববার নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ট্রাফিক পুলিশ। পরিস্থিতি অনুযায়ী সকাল ছয়টা থেকে বিভিন্ন সড়কে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের অন্তত ৩০টি স্থানে বিধিনিষেধ আরোপের আশঙ্কা রয়েছে।
সিজেপির অভিযোগ, বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া, বিভিন্ন স্থানে আটক অভিযান এবং যোগাযোগ ও গণপরিবহনে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার যুক্তিতে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন এবং বিক্ষোভকারীদের আটক নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।