শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য জেলা আমির হিসেবে শপথ নেন মিনহাজুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান। তাঁর উপস্থিতিতে নতুন আমির শপথ গ্রহণ করেন।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর খাগড়াছড়িতে বসবাসরত সব জাতি-ধর্ম ও মতের মানুষের সমান অধিকার, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন মিনহাজুর রহমান। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, “খাগড়াছড়িতে বসবাসরত সকল জাতি-ধর্ম, দল-মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি আমাদের আহ্বান সততা, ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নিজে ভূমিকা রাখুন, আমাদের সহযোগিতা করুন। খাগড়াছড়িতে বসবাসরত সকল নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ।”
দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, “সকল প্রকার দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি, ঘুষ, টেন্ডার বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। এই ক্ষেত্রে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করলে আমরা ছাড় দেব না।”
নিয়োগ ও সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা বিশেষ পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা এবং দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে যোগ্যতা এবং দক্ষতা হবে সকল প্রকার নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের মাপকাঠি, কোনো বিশেষ পরিচয় নয়।”
পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির বিষয়ে মিনহাজুর রহমানের বক্তব্য, বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতি, ধর্ম ও বর্ণকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। বিভেদ ও বৈষম্য দূর করে ঐক্য এবং সম্প্রীতির খাগড়াছড়ি গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
মিনহাজুর রহমান খাগড়াছড়ি পৌরসভার অপর্ণা চৌধুরীপাড়া (রূপনগর) এলাকার বাসিন্দা আলী আহমেদের ছেলে। পেশাগতভাবে তিনি পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ইংরেজিতে এমএ ও এমএড। শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ, খাগড়াছড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক এবং ওয়ামী, খাগড়াছড়ি জেলার জেলা কো-অর্ডিনেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি পদেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
নতুন আমিরের শপথ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ রুকন সম্মেলনে জেলা মজলিশে শুরার সদস্য নির্বাচন করা হয়। সম্মেলনে নির্বাচিত সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী দুই বছর নতুন নেতৃত্বের অধীনে জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য মো. আমিরুজ্জামান এবং বিদায়ী জেলা আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেন। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল নেতারাও এতে অংশ নেন। শপথ অনুষ্ঠানে বক্তারা দায়িত্ব পালনে আমানতদারিতা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক পরামর্শের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ঐক্য বজায় রাখা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর জোর দেন।