পাকিস্তান টানা দুই হারে বিদায়ের পথে ১১৯ রান করেও জিতল ভারত,

Total Views : 21
Zoom In Zoom Out Read Later Print

পাকিস্তানের বোলিং লাইন আপ নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকই করেছিল। শক্তিশালী ভারতীয়দের বেধে রাখল মাত্র ১১৯ রানে। টার্গেট সহজ হলেও নিউইয়র্কের ব্যাটসম্যনদের জন্য কঠিন পিচে বুমরাহ-আর্শদীপদের বিরুদ্ধে কাজটা যে একেবারেই সহজ হবে না সেটি অনুমেয় ছিল।তবে শুরুটা ভালো হওয়ায় জয়ের আশা দেখছিল পাকিস্তান সমর্থকরা।

তবে চাপ সামলে শেষ দিকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে আরও একবার একবার বিশ্ব আসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে দিল ভারত।দলটি ১১৯ রানের টার্গেটে জবাবে এক পর্যায়ে ১১ ওভারে ৭০ রানে দুই উইকেট থাকা পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে হারিয়ে তুলতে পেরেছে ১১৩ রান।লো স্কোরিং রোমাঞ্চে ভারতের জয় পাঁচ রানের।

।৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচায়  তিন উইকেট নিয়ে ব্লুজদের অসাধারণ  জয়ের নায়ক জাসপ্রিৎ বুমরাহ। স্লোয়ার,কাটার,ভ্যারিয়েশনের দুর্দান্ত মিশেলে তার এই স্পেল বিশ্বকাপ ইতিহাসে  অন্যতম সেরা স্পেল হিসেবেই বিবেচিত হবে।

ফলে টানা দুই ম্যাচ জিতে সুপার এইট প্রায় নিশ্চিত রোহিত শর্মার দলের।অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে বসা পাকিস্তান টানা দ্বিতীয় হারে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার শঙ্কায় পড়েছে।দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার ভাগ্য আর নিজেদের হাতে নেই বাবর আজমদের। ম্যাচ শেষে নাসিম শাহের কান্না আর  ডাগআউটে পাকিস্তান খেলোয়াড়দের বিমর্ষ চেহারা যেন বলে দিচ্ছিল কত বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছে দলটি। 

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে আগে ব্যাট করতে ভারতের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। বিশ্বকাপে রোহিত শর্মার সঙ্গে ওপেন করতে নামা বিরাট কোহলি এদিনও ফিরেছেন অল্প রানে।ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নাসিম শাহের বলে কাভার পয়েন্টে উসমান খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন কোহলি তখন ভারতের দলীয় রান ১৩। আয়ারল্যান্ড এর বিপক্ষে ১  রান করে ফেরা বিরাট এদিন আউট হন চার রানে।শাহিনের করা পরের ওভারে সাজঘরে ফেরেন ফ্লিকে দারুণ এক ছক্কায় ইনিংস শুরু করা রোহিত শর্মাও।ভারতীয় ক্যাপ্টেনের ব্যাট থেকে আসে ১৩ রান।

 

১৯ রানে দুই উইকেট হারানো ভারতীয় দলে এরপর হাল ধরেন রিষাভ পান্থ ও চারে নামা আক্ষর প্যাটেল।দুজনে মিলে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৩০ বলে যোগ করেন ৩৯ রান।তবে আমিরের করা ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে পান্থ টানা দুই বলে দুইবার জীবন না পেলে আরও আগেই ভাঙতে পারত এ জুটি।দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসে অবশ্য নাসির শাহ দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন প্যাটেলকে।এই বাঁহাতি ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ২০ রান।পান্ত এরপর কিছুটা আগ্রাসী হন।  হারিস রউফের এক ওভারেই মারেন তিন চার।

 

৮১ রানে চতুর্থ উইকেট হিসবে পান্থ ফেরেন সাজঘরে।

৩১ বলে ৬ চারে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন এই বাঁহাতি।পান্থ বিদায় নিতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ। রানের জন্য হাসাফাস করতে থাকা সূর্য কুমার( ৮ বলে ৭ রান) শিবাম দুবেও (৯ বলে ৩ রান)ফিরেন দ্রুত।এরপর রবীন্দ্র জাদজা ফিরলে ৮১ রানে তিন উইকেট থাকা ভারত ৯৬ রানে হারিয় বসে ৭ উইকেট।তখন একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে ছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া।তবে দলকে আরও বিপদে ঠেলে বিপদে ঠেলে তিনিও ফিরেন মাত্র ৭ রানে।আর্শদীপ শেষদিকে ১৩ বল ঠিকে থেকে ৯ রান না করলে আরও আগেই অলআউট হতে পারত ভারত।

 

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে দেখে শুনে খেলতে থাকে দুই পাক ওপেনার বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি বাবর। ১০ বলে ১৩ রান করে বুমরাহ বলে আউট হন এই ডান হাতি ব্যাটার।

 

এরপর ওসমান খান ১৫ বলে ১৩ রান এবং ৮ বলে ১৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন ফখর জামান। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে থাকেন রিজওয়ান।তবে ইনিংস ১৪ তম ওভারে এই ওপেনারকে ফিরিয়ে  ফিরিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ ভারতের দিকে টানেন জাসপ্রিৎ বুমরাহ। পরে নামা কোন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ভারতীয় পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে হাত খুলে খেলতে পারেননি।ফলে ধীরে ধীরে কঠিন হতে থাকে ম্যাচের সমীকরণ।

 

১৯তম ওভারেরে শেষ বলে ইফতেখার আহমেদ আউট হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান। শেষ ৬ বলে তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৮ রান।

 

কিন্তু শেষ ওভারে ২৩ বলে ১৫ রান করা ইমাদ আউট হলে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান তুলতে পারে পাকিস্তান। এতে ৬ রানের জয় পায় ভারত।

ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট শিকার করেন জাসপ্রিত বুমরাহ। এ ছাড়াও হার্দিক পান্ডিয়া দুটি, অক্ষর প্যাটেল এবং আর্শদীপ সিং একটি করে উইকেট নেন।



See More

Latest Photos