সিন্ডিকেটের দাপট,আশ্বাসের বিপরীতে রমজানের বাজার

Total Views : 9
Zoom In Zoom Out Read Later Print

রমজান এলেই দেশের বাজারব্যবস্থায় একটি পুরোনো ও কুৎসিত চিত্র ফুটে ওঠে। এবার ব্যতিক্রম কিছু হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু হয়নি। পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত, আমদানি শুল্ক কমানো, সরকারের পক্ষ থেকে একের পর এক আশ্বাস সত্ত্বেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়া প্রমাণ করছে, বাজারের নিয়ন্ত্রণ এখনো সিন্ডিকেটের হাতেই রয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বাজারে কোনো পণ্যেরই ঘাটতি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং কৃষি দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে-পেঁয়াজ, ছোলা, চিনি ও মসুর ডালের মজুত চাহিদার চেয়েও বেশি। এমনকি খেজুরের মজুত চাহিদার তুলনায় ১৫ হাজার টন বেশি থাকা সত্ত্বেও বাজারে এর দাম বেড়েছে কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এর অর্থ পরিষ্কার-বাজারের এই অস্থিরতা কোনো স্বাভাবিক অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং এটি পরিকল্পিত কৃত্রিম সংকট। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ইফতার পণ্যের চড়া দাম। শসা, লেবু ও বেগুনের দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। মুরগি ও ফলের বাজারেও চলছে নীরব লুটপাট। ব্রয়লার মুরগি কিংবা আপেল-মাল্টার দাম যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাবার তো বটেই, সাধারণ ইফতার জোগাড় করাই এখন নাভিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) যথার্থই বলেছে, প্রতিবছর উৎসবের আগে অসাধু চক্রের এই কারসাজি অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকদেখানো কিছু জরিমানা আর প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির ফাঁক গলে এই সিন্ডিকেটগুলো ঠিকই পার পেয়ে যাচ্ছে। যখন পণ্যের সরবরাহ ও মজুত পর্যাপ্ত থাকে, তখন দাম বাড়ার একমাত্র কারণ হলো ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফালোভী মানসিকতা এবং বাজারের ওপর প্রশাসনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চিরুনি অভিযানের কথা বললেও এর প্রভাব বাজারে খুব একটা দৃশ্যমান নয়। শুধু জরিমানা করে এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে থামানো সম্ভব নয় বলে মনে করি আমরা। যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনজীবন অতিষ্ঠ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা, প্রয়োজনে জেল এবং ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলের মতো দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। রমজান ত্যাগের মাস, ভোগান্তির নয়। সাধারণ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। শুল্কছাড়ের সুফল নিশ্চিত করতে এবং রমজানের বাজারকে সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্ত করতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের জিরো টলারেন্স নীতি এখন সময়ের দাবি।

See More

Latest Photos