ঈদে শাড়ি থ্রিপিস লেহেঙ্গা আসছে ভারত থেকে

Total Views : 14
Zoom In Zoom Out Read Later Print

কুমিল্লায় ঈদ সামনে রেখে চোরাইপথে আসছে ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, লেহেঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এসব তৈরি পোশাক নগরীর বিপণিবিতান এবং শপিংমলে প্রবেশ করছে। এতে একদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বাজার হারাচ্ছে, আরেকদিকে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর কেন্দ্র করে জমে উঠেছে কুমিল্লার ঈদ বাজার। নগরীর শপিংমলগুলোতে শোভা পাচ্ছে ভারতীয় শাড়ি থ্রিপিস লেহেঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের ঝলমলে পোশাক। বিশেষ করে মার্কেটগুলোতে নারীদের পোশাকের ৯০ শতাংশই ভারতীয়। প্রশ্ন উঠেছে এসব পোশাক কী বৈধ পথে আসছে? নাকি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সোজা মার্কেটগুলোতে প্রবেশ করছে?

স্থানীয়রা বলছে, কুমিল্লার ৫টি উপজেলার সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। কুমিল্লা শহর থেকে ভারত সীমান্তের দূরত্ব মাত্র-৪-৫ কিলোমিটার। সীমান্তে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা থাকলেও পাহাড়ি এবং গিরিপথগুলোতে রয়েছে চোরাকারবারিদের নিয়ন্ত্রণ। ঈদ সামনে রেখে এখন সক্রিয় সব পোশাক সিন্ডিকেট। এতে দেদারসে আসছে নারীদের তৈরি পোশাক।

স্থানীয় বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভারত থেকে চোরাইপথে বাহারি তৈরি পোশাক এনে বাজারজাত ও বিপণন করছে। বিক্রেতারা জানায়, নারী ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে ভারতীয় থ্রিপিস, লেহেঙ্গা, শাড়ি ও নানা ধরনের পোশাক। চোরাইপথে ভারতীয় কাপড় দেশে প্রবেশের পরই সিন্ডিকেট সদস্যরা বিভিন্ন দোকানের নামে ইনভয়েস বানিয়ে স্থানীয়ভাবে বাজারজাতসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, জেলার ভারত সীমান্তবর্তী আদর্শ সদর উপজেলার বিষ্ণপুর এলাকার ৮০-৮১নং পিলার, মতিনগর-বড়জালা এলাকার ৭৫-৭৬নং পিলার, নিশ্চিন্তপুর এলাকার ৭৯নং পিলার, খাড়েরা-ফুলকুমারী এলাকার ৭২নং পিলার দিয়ে চোরাইপথে ভারতীয় পোশাক আনা হচ্ছে। তাছাড়া জেলার সদর দক্ষিণের লক্ষ্মীপুর, শিবের বাজার, কানেশতলা, আমানগন্ডা, কুমারডোগা, রাজেশপুর, বলেরডেপা, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল আশাবাড়ী, বুড়িচংয়ের শংকুচাইল, খাড়েরাসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রতিদিনই কোটি কোটি টাকার ভারতীয় তৈরি পোশাক দেশের বাজারে আসছে।

নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার আধুনিক মার্কেট সাত্তার খান কমপ্লেক্স, খন্দকার হক ম্যানশন, সমবায় মার্কেট, রেসকোর্স এলাকার ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজাসহ অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে ভারতীয় শাড়ি থ্রিপিস লেহেঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের চকচকে পোশাকে সয়লাব দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছে, তারা বৈধ পথেই এসব পোশাক আমদানি করছে। কিন্তু কুমিল্লার কাস্টমস সূত্র বলছে, এসব ভারতীয় কাপড় আসে চোরাইপথে। কারণ কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে কোনো প্রকার কাপড় আমদানি-রপ্তানি হয় না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চোরাকারবারিদের কাছ থেকে এই কাপড় কম দামে সংগ্রহ করছে।

নগরীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে গিয়ে দেখা যায়, নারীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পোশাকের দোকানে দেশীয় তৈরি কাপড়, থ্রিপিস, টুপিসসহ অন্য কাপড় অনেক কম। এসব বিপণিবিতানে রয়েছে-ভারতীয় থ্রিপিস, আগানুর, পদ্মজা, অরগেন্ডি, জয়পুরী, কাশ্মীরি, কুশিকাটা, বিনয়, জয়পুরী লেহেঙ্গা, ত্রিপুরা নক্শী, বিপুল, পরী, আকাশী, প্রিয়তমা, তৃষ্ণা, নাগর, দিপর, বোম্বে ফ্যাশনসহ শতাধিক ডিজাইনের থ্রিপিসসহ ভারতীয় কাপড়ের সমাহার।

কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, চোরাইপণ্য আটকে আমাদের অভিযান চলছে। আমরা যখনই চোরাইপণ্য আটক করছি সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

কুমিল্লাস্থ ১০ বিজিবির কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। ইতঃপূর্বে বেশকিছু চোরাইপণ্য উদ্ধার করে কাস্টমসে হস্তান্তর করা হয়েছে।

See More

Latest Photos