ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট এ সংকটময় মুহূর্তে জ্বালানি তেল মজুত না করে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এ আহ্বান যথার্থ। ভবিষ্যৎ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় প্রয়োজন না থাকলেও অনেকে বারবার তেল কিনে মজুত করছেন। আবার এমন অভিযোগও আছে যে, তেলের দাম বাড়বে ভেবে অনেক পাম্প মালিক বাড়তি মুনাফার জন্য তেল মজুত করে রাখছেন। এ প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরি। এদিকে সরবরাহে ঘাটতি, মজুত কম এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যখন লক্ষ করা যাচ্ছে, বেশির ভাগ পাম্পে ছোট গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জ্বালানি অকটেন ও পেট্রোল চাহিদামতো মিলছে না।
জ্বালানি সরবরাহ চেইনটি সচল রাখা জরুরি সংকট মোকাবিলা,
সরকারের পক্ষ থেকে তেল মজুত না করার নির্দেশ মূলত বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধ এবং কালোবাজারি রুখতে একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। তবে এই নির্দেশ তখনই সফল হবে, যখন তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকবে। যদি সময়মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি দেশে না পৌঁছায়, তাহলে কেবল মজুতবিরোধী অভিযান চালিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কঠিন হবে। আমাদের সেচব্যবস্থা এবং পণ্য পরিবহণ মূলত ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। তবে ব্যক্তিগত পরিবহণ এবং জরুরি সেবায় ব্যবহৃত অকটেন ও পেট্রোলের ঘাটতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। পরিবহণের একটি বড় অংশ যদি জ্বালানি সংকটে থমকে দাঁড়ায়, তাহলে এর প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। অকটেন ও পেট্রোল সংকটের পেছনে আমদানির সীমাবদ্ধতা, নাকি রিফাইনারিগুলোর সক্ষমতার অভাব দায়ী, তা দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কেবল সাময়িক নির্দেশের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। আমাদের প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল : একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করা; বিপিসির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা এবং ডিলার পর্যায়ে কোনো কারসাজি হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা। জ্বালানি হলো অর্থনীতির প্রাণশক্তি। বিপিসির দুশ্চিন্তা দূর করতে এবং জনগণের আস্থা ফেরাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মজুত না করার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের চেইনটি সচল রাখাই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ সংকট মোকাবিলায় দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাব থাকলে অদূরভবিষ্যতে আমাদের বড় ধরনের মাশুল গুনতে হতে পারে।