ব্যবহার করতে পারবেন ‘বাংলা কিউআর’ চালু: কারা , সুবিধা কী

Total Views : 11
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণ এবং নগদ টাকার ব্যবহার কমাতে দেশে চালু হয়েছে জাতীয় কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্মার্টফোন ব্যবহার করে কিউআর কোড স্ক্যান করলেই সহজে অর্থ লেনদেন করা যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সব তফসিলি ব্যাংককে নিজস্ব মোবাইল অ্যাপে ‘বাংলা কিউআর’ যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে শিগগিরই অধিকাংশ ব্যাংকের গ্রাহক একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে লেনদেন করতে পারবেন।

কী এই ‘বাংলা কিউআর’

‘বাংলা কিউআর’ হলো একীভূত কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা। আগে বিভিন্ন ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড থাকলেও এখন একটি কোড দিয়েই সব ধরনের পেমেন্ট গ্রহণ সম্ভব। গ্রাহক শুধু মোবাইল অ্যাপ থেকে কোড স্ক্যান করলেই লেনদেন সম্পন্ন হবে—নগদ টাকা বা কার্ডের প্রয়োজন নেই।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে এগোতে এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে লেনদেন হবে দ্রুত, ঝামেলামুক্ত এবং নিরাপদ। একই সঙ্গে নগদ বহনের ঝুঁকি কমবে এবং আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়বে, যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকেও সহায়তা করবে।

কারা ব্যবহার করতে পারবেন

ছোট, মাঝারি ও বড়—সব ধরনের ব্যবসায়ী এই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবেন। রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকান, ফার্মেসি থেকে শুরু করে বড় শপিং সেন্টার—সব জায়গায় একই কিউআর কোড ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে, স্মার্টফোন ব্যবহারকারী যেকোনো গ্রাহক সহজেই এই সেবা নিতে পারবেন।


ব্যবহার কতটা সহজ

এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে আলাদা কোনো যন্ত্রপাতির দরকার নেই। ব্যবসায়ী একটি কিউআর কোড প্রদর্শন করবেন, আর ক্রেতা সেটি স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধ করবেন। লেনদেন সম্পন্ন হলে সঙ্গে সঙ্গে এসএমএস বা অ্যাপে নোটিফিকেশন পাওয়া যাবে।

অতিরিক্ত সুবিধা

শুধু পেমেন্ট নয়, ব্যবসা ব্যবস্থাপনাতেও সহায়ক ‘বাংলা কিউআর’। এর মাধ্যমে দৈনিক লেনদেনের হিসাব রাখা, ডিজিটাল হালখাতা তৈরি, সরবরাহকারীদের অর্থ প্রদান এবং বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করা সহজ হবে।

নিরাপত্তা দিক

স্পর্শবিহীন হওয়ায় এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমায় এবং জাল নোটের আশঙ্কাও থাকে না। পাশাপাশি ব্যাংকিং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে লেনদেন তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকে।

কারা যুক্ত

দেশে পরীক্ষামূলকভাবে কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট চালুর পর সেটিকে জাতীয় পর্যায়ে ‘বাংলা কিউআর’ হিসেবে বিস্তৃত করা হয়েছে। বর্তমানে সব ব্যাংকের জন্য এটি বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ চলছে। অনেক ব্যাংক ইতোমধ্যে তাদের অ্যাপে এই সেবা যুক্ত করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কার্ড নেটওয়ার্কের সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়েছে।

ডিজিটাল অর্থনীতির পথে এগিয়ে যেতে ‘বাংলা কিউআর’ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সহজ ব্যবহার, কম খরচ এবং দ্রুত লেনদেনের সুবিধায় এটি দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

See More

Latest Photos