ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে গণ্য হতে পারে। আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের সহকারী অধ্যাপক মারিকে ডি হুন আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন।
পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইউক্রেনে হামলার জন্য , ইরানের বহু বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের পরেও কেন নীরব আইসিসি?
অধ্যাপক ডি হুনের মতে, সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনে অত্যন্ত কঠোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, কেবল তখনই এই ধরনের হামলা বৈধ হতে পারে যদি তা সরাসরি কোনো সামরিক বড় সুবিধা নিশ্চিত করে। তবে এই মানদণ্ড পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন।
তিনি ইউক্রেনের ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) রুশ নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল, তখন আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে—সামরিক সুবিধার চেয়ে বেসামরিক জনগণের ক্ষতি এড়ানোর বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক 'পাথর যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার' হুমকির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের বাগাড়ম্বর সরাসরি বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দেয়। এটি কেবল যুদ্ধাপরাধই নয়, বরং 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।