ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ইসলামাবাদে অবিশ্বাসের ছায়ায়

Total Views : 12
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ঘিরে পারস্পরিক অবিশ্বাসই ছিল প্রধান বাস্তবতা, এমনটাই জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ইসলামাবাদে পৌঁছে বলেছেন, ‘আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি না। তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকানদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার অভিজ্ঞতা সবসময়ই ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।’ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যদি ইরান আমাদের সঙ্গে কৌশল করার চেষ্টা করে, তাহলে তারা দেখবে আমাদের আলোচক দল ততটা সহনশীল নয়।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

এটাই ৯৯ শতাংশ বিষয়।’

তবে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলা বন্ধ করা, যা ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট শর্তও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইরান জানিয়েছে, লেবানন প্রসঙ্গে প্রতিশ্রুতি এবং নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে জব্দ করা ইরানের সম্পদ মুক্ত না হলে আলোচনা শুরুই সম্ভব নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান হলো, লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান বুঝতে পারছে না যে তাদের হাতে কোনো কার্ড নেই, শুধু আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে স্বল্পমেয়াদে বিশ্বকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা ছাড়া। তারা আজ বেঁচে আছে শুধু আলোচনার জন্য!’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, অগ্রগতি অর্জন করা সহজ হবে না। এই পর্যায়টাকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘মেক অর ব্রেক’—অর্থাৎ সবকিছু সফল হবে, না হয় ভেঙে পড়বে।’

ইসলামাবাদে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বসতে যাচ্ছে, সেই সেরেনা হোটেলের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সব রাস্তাই বন্ধ রাখা হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ‘ইসলামাবাদ টকস’ লেখা ব্যানারও টাঙানো হয়েছে।

তবে তেহরানে অনেকেই আলোচনার সফলতা নিয়ে সন্দিহান। এএফপিকে ৩০ বছর বয়সী স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ট্রাম্পের বেশিরভাগ বক্তব্যই তার কাছে ‘শুধুই শব্দদূষণ আর অর্থহীন কথা’ বলে মনে হয়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

See More

Latest Photos