এমন হার এই নিউজিল্যান্ডের কাছেও !

Total Views : 6
Zoom In Zoom Out Read Later Print

নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ ক্রিকেটারদের বড় অংশ এখন ব্যস্ত আইপিএলে। সেখানে যারা নেই, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলি খেলছেন পিএসএলে। নেই নিয়মিত অধিনায়ক হেনরি নিকোলস। এমনকি এই সফরের দলে থাকা পেসার বেন সিয়ার্স পরে পিএসএলে দল পাওয়ায় তাকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে জাতীয় দল থেকে। সেই ক্রিকেটারদের ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে এসেছে কিউইরা। তাদেরকে চেপে ধরার সুযোগও পেয়ে গিয়েছিল অল্পে আটকে। তবে নড়বড়ে, আড়ষ্ট ব্যাটিংয়ে খর্বশক্তির সেই দলটির কাছেই হেরে গেল বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২৬ রানে হেরেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। সফরকারীদের ২৪৭ রানের জবাবে ৯ বল আগে ২২১ রানে থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। প্রথম সারির ১০ জনকে ছাড়া বাংলাদেশে খেলতে এসেও তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল কিউইরা। ১ রানে জীবন পাওয়া সাইফের ৭৬ বলে ৫৭, লিটনের ৬৮ বলে ৪৬ রানের পর হৃদয় করেন ৬০ বলে ৫৫ রান। ছয়ে নামা আফিফ ৪৯ বলে ২৭ করে দলের বিপর্যয়ে রাখেন প্রভাব। ৪০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দিয়ে নিউজিল্যান্ডের নায়ক পেসার ব্লেয়ার টিকনার। এমনিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিউ জিল্যান্ডের ধারাবাহিকতা দারুণ। গত বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল খেলেছে তারা, ফাইনালে খেলেছে গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। সবশেষ সিরিজে গত জানুয়ারিতে ভারতে গিয়ে ভারতকে হারিয়ে দিয়েছে তারা। আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা আছে দুই নম্বরে। তাদের বিপক্ষেও এদিন লক্ষ্য ছিল নাগালের মধ্যেই, সেই লক্ষ্যে বাজে শুরুর পর সাইফ হাসান-লিটন দাসের জুটিতে জয়ের আভাস ছিল স্পষ্ট। এই দুজনের বিদায়ের পর অদ্ভুত অ্যাপ্রোচে খেলে হারল বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালালেও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাটিংয়ে দলের ভরাডুবির কারণ হলেন আফিফ হোসেন। নাগালে থাকা লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারেই ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ন্যাথান স্মিথের পরপর দুই বলে বোল্ড হন তারা। আগের ওভারে ১ রানে সাইফ হাসানের ক্যাচ হেনরি নিকোলস না ফেলে দিলে পড়তে পারত ৩ উইকেট। ২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে হকচকিয়ে পড়া দলকে এরপর স্থির করেন লিটন; জীবন পাওয়া সাইফকে নিয়ে পরিস্থিতি দারুণভাবে সামলে নেন তিনি। শুরুর কঠিন সময় পার করে অনায়াসে রান বের করতে থাকেন তারা। আগের সিরিজে রান না পাওয়া সাইফ ছিলেন সমালোচনায়। প্রবল চাপে নেমে শুরুতে ক্যাচ দিয়ে বাঁচার পর নিজেকে সামলে নেন তিনি। আলগা বল কাজে লাগিয়ে ফিফটি পেরোতে বেগ পেতে হয়নি তাকে। তবে ফিফটির পর বেশি এগোনো হয়নি ডানহাতি ওপেনারের। ৮ চার, ১ ছক্কায় ৭৬ বলে ৫৭ করে ক্যাচ উঠিয়ে ফেরেন সাইফ। এতে ভাঙে ১১৬ বলে ৯৩ রানের বড় জুটি।

সাইফ বিদায় নিলেও লিটন ছিলেন সাবলীল, হৃদয়কে নিয়ে জুটির পথে ছিলেন তিনি। তবে ফিফটির কাছে গিয়ে ফক্সক্রফটের ভেতরে ঢোকা অফ স্পিন ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান কিপার ব্যাটার। লিটনের বিদায়ের পর রানের চাকা আচমকা মন্থর হয়ে পড়ে। ছয়ে নামা আফিফ কুঁকড়ে ছিলেন, রান বের করতে ধুঁকছিলেন তিনি। হৃদয়ও শুরুর দিকে আড়ষ্ট থাকায় কিছুটা চাপ বাড়ছিল দলের ওপর। অবশ্য ধুঁকতে থাকলেও উইকেট ছুড়ে দেননি তারা, সময় নিলেও পুষিয়ে দেওয়ার বিশ্বাস ছিল হয়তো। আফিফ সেটা পারেননি। বাজে শটে শেষ হয় তার ৪৯ বলে ২৭ রানের সংগ্রাম। এরপর রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ টিকতে পারেননি বেশি। একা চাপ পড়ে যায় হৃদয়ের কাঁধে। সেই চাপ নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
এর আগে টস জিতে হেনরি নিকোলস ও ডিন ফক্সক্রফটের ফিফটিতে আড়াইশর কাছে পুঁজি পায় কিউইরা। ইনিংস বিরতিতে মনে হচ্ছিল কিছু রান কম করেছে তারা। কিন্তু পরে দেখা গেল এই রানই জয়ের জন্য যথেষ্ট।

See More

Latest Photos