ইসরায়েলি সেনার কাণ্ডে নিন্দার ঝড়,হাতুড়ি দিয়ে যিশুর মূর্তি ভাঙচুর

Total Views : 16
Zoom In Zoom Out Read Later Print

দক্ষিণ লেবাননে এক ইসরায়েলি সেনার যিশু খ্রিস্টের মূর্তিতে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার একটি ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, যারা বলছে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভিডিওটি অনলাইনে প্রকাশ পাওয়ার পর দ্রুত ভাইরাল হয় এবং কয়েক মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় সহনশীলতা এবং ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস বা ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস এক বিবৃতিতে জানায়, ভাইরাল হওয়া ছবিটি সত্য। বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানের সময় ঘটনাটি ঘটেছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অভিযুক্ত সেনার আচরণ তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি দক্ষিণ লেবাননের ডেবেল (দেবেল) এলাকার একটি ধর্মীয় স্থাপনার কাছে ঘটে। এলাকাটি মূলত ম্যারোনাইট খ্রিস্টান অধ্যুষিত বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে অভিযান পরিচালনা করছে। ধর্মীয় স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা তাদের উদ্দেশ্য নয় বলেও তারা জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সম্প্রদায়কে সহায়তা করার কথাও উল্লেখ করেছে সেনাবাহিনী।

 

ঘটনাটি ঘিরে ইসরায়েলি রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পার্লামেন্টের কিছু সদস্য ধর্মীয় স্থাপনার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ধর্মীয় প্রতীক বা উপাসনালয়ের ওপর আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী। তবে তারা একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছে, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে তথ্য যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আরও সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্থাপনা জড়িত থাকায় এটি কূটনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

See More

Latest Photos