ইরানের হাতে এখনো অনেক বিকল্প.যুক্তরাষ্ট্রের সব চাল শেষ: গালিবাফ

Total Views : 8
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সংঘাত নিয়ে নতুন করে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি দাবি করেছেন, এই অর্থনৈতিক লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার বেশিরভাগ কৌশলগত সক্ষমতা ইতোমধ্যেই ব্যবহার করে ফেলেছে, অথচ ইরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রয়ে গেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব নিয়ে করা বিভিন্ন বক্তব্যকে খারিজ করে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। তাঁর মতে, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইরান তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তিনি একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরেন।

ইরানের সরবরাহভিত্তিক শক্তি হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালি, বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং তেল পরিবহন পাইপলাইনের কথা উল্লেখ করেন। এসব পথ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ হিসেবে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে তেল ছাড়, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়ের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

 

ইরানি স্পিকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের বেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে বা আংশিকভাবে ব্যবহার করেছে। বিপরীতে ইরানের কিছু কৌশল এখনো পুরোপুরি প্রয়োগ করা হয়নি। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, প্রয়োজনে তেহরান এসব বিকল্প ব্যবহার করতে পারে, যা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে আসন্ন গ্রীষ্মকালীন সময়, যখন জ্বালানির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। এই বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় বাজারে ভারসাম্য রক্ষা করা ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন সরাসরি আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। গালিবাফের এই বক্তব্য সেই বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ

See More

Latest Photos