কোটি মানুষ,আগামী বাজেটে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে

Total Views : 8
Zoom In Zoom Out Read Later Print

দারিদ্র্যবিমোচনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচিতেই প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে নতুন করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুধু তাই নয়, দরিদ্র ও ভালনারেবল জনগোষ্ঠীকে নগদ অর্থ দেওয়ার বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও বাড়াচ্ছে সরকার।

সব মিলিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ১৮টি ভাতা প্রদান এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে চলতি অর্থবছর মোট ২ কোটি ৬০ লাখ উপকারভোগীর জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২১ হাজার ৭০১ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এসব কর্মসূচির আওতায় ৩৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকার সুবিধা পাবেন ৩ কোটি ৬৩ লাখ মানুষ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সেখানে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতাও সম্প্রসারণ করছে বিএনপি সরকার। চলতি অর্থবছর ৫৫ লাখ পরিবার ১৫ টাকা কেজি দরে বছরের ৬ মাস ৩০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা পায়, আগামী অর্থবছরে এ সংখ্যা আরও ৫ লাখ বাড়ানো হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান-ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু এই চারটি কর্মসূচিতেই ১ কোটি ২১ লাখ নতুন উপকারভোগী যুক্ত হবেন। এছাড়া, বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুত মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি প্রদান কার্যক্রমে প্রায় ২ লাখ ৫৬ হাজার উপকারভোগী সুবিধা পাবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীর সংখ্যা ৪১ লাখে উন্নীত করতে চায় সরকার। ফ্যামিলি কার্ডধারীদের প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা ভাতা দিচ্ছে সরকার। আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ থাকছে প্রায় ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি কৃষক কার্ড।

চলতি অর্থবছর ২ হাজার ৬৭ জন কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনতে কাজ চলছে। আগামী অর্থবছর ৪২.৫০ লাখ কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডধারী কৃষকরা বছরে ২৫০০ টাকা সরকার থেকে নগদ সহায়তা পাবেন। খাল খনন কর্মসূচিতে চলতি অর্থবছর উপকারভোগীর সংখ্যা রয়েছে ২৬.৬৭ লাখ। আগামী অর্থবছর উপকারভোগীর সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৩৪.০২ লাখে উন্নীত করতে চায় সরকার।

বাজেটে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এসব ভাতার ক্ষেত্রে ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য বাড়তি ভাতা দেবে সরকার। চলতি অর্থবছর ৬১ লাখ নাগরিক বয়স্ক ভাতা সুবিধা হিসাবে প্রতি মাসে ৬৫০ টাকা করে পাচ্ছেন। এতে সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে ৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৬২ লাখ বয়স্ক নাগরিককে ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের ভাতা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশেষ করে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, বীরউত্তম, বীরবিক্রম, বীরপ্রতীক মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, একদিকে রাজস্ব আদায় কমছে, অন্যদিকে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে অর্থনীতিতে। এ বাস্তবতায় সরকার সামাজিক নিরাপত্তায় কতটুকু নজর দিতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পুনর্গঠন ইতিবাচক হলেও বরাদ্দ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম। কর্মসূচি কমিয়ে কার্যকারিতা বাড়ানো ভালো উদ্যোগ, তবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি।

See More

Latest Photos