চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আসাননগর গ্রামে ভ্যান চুরির অভিযোগে দুদু (২২) নামের এক যুবককে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার আগে তার শরীরে ও নাকে গরম পানি ঢেলে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। গতকাল রোববার (১৭ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাউসপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে নিহত দুদু আসাননগর গ্রামের মিজানুরের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক, যার মধ্যে এক সন্তানের বয়স মাত্র ৪ মাস। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাউসপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে অন্তরের একটি ভ্যান গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে চুরি হয়। এই চুরির ঘটনায় তারা দুদুকে সন্দেহ করে। এরপর রোববার সকালে খবির, সুমন, আশিক, বায়েজিদ, রফিক, শাকিলসহ কয়েকজন দুদুর বাড়িতে গিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। এসময় তাকে বাড়িতে না পেয়ে তারা দুদুর মায়ের সামনেই হুমকি দিয়ে আসে যে, দুদুকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই হত্যা করা হবে।
ফিল্মি স্টাইলে তুলে নিয়ে হত্যা চুরির অভিযোগে যুবককে
অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে দুদুকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে মারধর করে। একপর্যায়ে তার নাকে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের কারণে দুদুর শরীর নিথর হয়ে পড়লে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে আলমডাঙ্গা হাউসপুরের শরিফুলের ক্লিনিকে নিয়ে যায় নির্যাতনকারীরা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুদুকে মৃত ঘোষণা করার পর, তারা কৌশলে মরদেহটি সেখান থেকে সরিয়ে হাউসপুর বটতলায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেকোনো অপরাধের বিচার আইনি প্রক্রিয়াতেই হতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।