মেসির হ্যাটট্রিকের দিনে বিশ্বকাপে নতুন যত রেকর্ড

Total Views : 21
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি অবিস্মরণীয় রাতের সাক্ষী হলো বিশ্ব। আর্জেন্টিনার জার্সিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে এক ম্যাচেই একাধিক রেকর্ড নিজের নামে লিখে নিলেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি যেন পরিণত হয়েছিল রেকর্ড ভাঙা-গড়ার মহোৎসবে। ৩-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনাকে উড়িয়ে নিয়ে যান অধিনায়ক মেসি। তিনটি গোলই ছিল বিশ্বমানের। কিন্তু গোলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে তার নতুন নতুন অর্জন। এক ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের বহু অধ্যায় নতুন করে লিখেছেন তিনি।

ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রথম গোল করেন মেসি।এরপর ৬০ ও ৭৬ মিনিটে আরও দুটি গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক।আর্জেন্টিনার হয়ে বহু হ্যাটট্রিক থাকলেও বিশ্বকাপ মঞ্চে এর আগে কখনও তিন গোল করতে পারেননি তিনি।অবশেষে সেই অপূর্ণতাও ঘুচল।এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ১৬-তে।ফলে তিনি স্পর্শ করেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড।বিশ্বকাপ ইতিহাসের যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি ও ক্লোসা।পরবর্তী ম্যাচেই রেকর্ডটি এককভাবে নিজের করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে তার সামনে।


তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

২০০৬ থেকে ২০২৬-দুই দশকের বিশ্বকাপ যাত্রা এখন শুধুই মেসির।ফুটবল ইতিহাসে আর কেউ এই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি।ম্যাচটি ছিল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচও।আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০ ম্যাচ খেলা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নতুন ইতিহাস লিখেছেন তিনি।এটি তার দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের আরেকটি মাইলফলক।হ্যাটট্রিকের আরেকটি বিশেষত্ব রয়েছে।৩৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করে তিনি হয়ে গেছেন টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক হ্যাটট্রিককারী ফুটবলার।বয়সকে যে এখনও তিনি হার মানাতে পারেন, সেটিই যেন আবার প্রমাণ করলেন। শুধু তাই নয়, তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতাও। দুই দশক আগে বিশ্বকাপে গোল করা তরুণ মেসি, আজও গোল করছেন সমান দাপটে।এ যেন সময়কে হার মানানোর গল্প। মেসির এই হ্যাটট্রিক তাকে আরেকটি অভিজাত তালিকায় নিয়ে গেছে। তিনি এখন পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার। দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার এটি এক অনন্য উদাহরণ। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে এটি ছিল পঞ্চম হ্যাটট্রিক। দেশটির ফুটবল ইতিহাসেও এই অর্জন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মেসির নাম এখন সেই গৌরবময় তালিকার অংশ। আরও একটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যান হলো, এই হ্যাটট্রিক ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার ১১তম হ্যাটট্রিক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি একটি বিরল অর্জন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারেও এমন ধারাবাহিকতা খুব কম খেলোয়াড়ই দেখাতে পেরেছেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোলটি ছিল বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত ১৫তম গোল। তৃতীয় গোলের মাধ্যমে সেটি ১৬-তে পৌঁছে যায়। এর ফলে রোনালদো নাজারিওকে পেছনে ফেলে ক্লোসার পাশে জায়গা করে নেন তিনি। ম্যাচের তৃতীয় গোলটি আসে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে দূরপাল্লার গোলের বিশেষ রেকর্ডেও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি। বিশ্বকাপে ২০ বছর আগে প্রথম গোল করেছিলেন মেসি। ঠিক দুই দশক পর আবার হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন। এমন দীর্ঘ ব্যবধানে বিশ্বকাপে সমান প্রভাব ধরে রাখার নজির খুবই বিরল। মেসির পারফরম্যান্সে উজ্জীবিত হয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। শিরোপাধারী দল হিসেবে তারা এসেছে বিশ্বকাপ রক্ষার মিশনে। প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শক্তির জানান দিল স্কালোনির দল। ম্যাচ শেষে বিশ্বজুড়ে প্রশংসার বন্যায় ভেসেছেন মেসি। সতীর্থ, কোচ, সাবেক ফুটবলার-সবার মুখে একই কথা। ৩৮ বছর বয়সেও তিনি এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তি এসেছেন। অনেকেই রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু এক ম্যাচে এতগুলো মাইলফলক স্পর্শ করার ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। মেসির হ্যাটট্রিকের রাতটি তাই শুধুই একটি জয় নয়। এটি ছিল ইতিহাসের রাত ,রেকর্ডের রাত। এটি ছিল একজন কিংবদন্তির আরও একবার নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার রাত। ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো বহু বছর পরও স্মরণ করবে এই ম্যাচটি। যেদিন লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন-কিংবদন্তিরা বয়সে নয়, পারফরম্যান্সে বেঁচে থাকেন। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে তার গল্প এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

See More

Latest Photos