বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী মুহাম্মাদ আবদুর রহীম রুহী বলেছেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের নীরবতা ও মানবতাকে শেখ হাসিনা ও তার দোসররা দুর্বলতা ভেবেছে। সেই জায়গা থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সাম্প্রতিক বিভিন্ন জায়গায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের মনে রাখতে হবে, হাসিনা সরকার বিগত ১৭ বছর দেশে হাজার হাজার নিরীহ আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতাকে হত্যা করেছে, আহত করেছে, সারা জীবনের জন্য পঙ্গু করেছে। বিডিআরের ৫৭ জন সেনা অফিসারকে হত্যার মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেমকে হত্যা করেছে। রাস্তা থেকে নিরীহ পথচারীদের ধরে নিয়ে আয়নাঘরের টর্চার সেলে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বন্দি করে রেখেছে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে চৌদ্দশ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ দেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনকে মাদক এবং অস্ত্রের গুদামে রূপান্তরিত করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। আওয়ামী লীগের নেতারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এতকিছু করার পরও শেখ হাসিনা কীভাবে স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশে ফের রাজনীতি করার? শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর বন্দুক রেখে ১৭টা বছর এদেশের মানুষের উপর জুলুম-নির্যাতন করেছে। শেখ হাসিনা ও তার দলের রাজনীতি করার সুযোগ এদেশে আর নেই। ইতিহাস সাক্ষী, আওয়ামী লীগ ইসলাম ও দেশের চিরশত্রু।
বিডিআর সেনা হত্যার মাধ্যমে দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন
২০ জুন বিকেলে নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেত্রকোনা জেলা খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে, জেলার আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর দায়ে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের নির্দেশদাতাদের গ্রেফতার এবং সীমান্তে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ফাহিম রহমান খান পাঠান, জেলা খেলাফত আন্দোলনের নেতা মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা মোস্তফা জিহাদী, খেলাফত যুব আন্দোলনের জেলা সভাপতি মুফতি মুসা শেখ, খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল মোতালিব খান, ছাত্র আন্দোলন নেত্রকোনা জেলা শাখার নেতা মাওলানা বিন ইয়ামিন রুমি, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, ইসলামি শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতা মারুফ বিল্লাহ। মানববন্ধন চলাকালে গাজী আব্দুর রহীম আরও বলেন, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য দিয়েছে।
এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কোমর সোজা করে পাল্টা জবাব দিতে হবে। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।