ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে লেবার পার্টির দলীয় প্রধানের পদ থেকেও পদত্যাগ করছেন। সোমবার (২২ জুন) লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে যা বললেন কিয়ার স্টারমার
পদত্যাগের ঘোষণায় স্টারমার বলেন, দুই বছর আগে এই সড়ক বেয়ে হেঁটে আসা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত। একটি নতুন লেবার সরকার। ১৪ বছরের মধ্যে প্রথমবার। বহু বছরের হতাশা ও নিরাশার পর আমাদের দেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।
এখন তাকে ছেড়ে দিতে হচ্ছে পদ। স্টারমার জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, লেবার পার্টির সংসদীয় সদস্যরা মনে করেন আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন এবং তিনি সেই সিদ্ধান্ত সসম্মানে মেনে নিয়েছেন।
স্টারমার বলেন, ছয় বছর আগে তিনি রাজনৈতিক, আর্থিক ও নৈতিক সংকটে থাকা লেবার পার্টির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর দলকে পুনর্গঠন করে ১৪ বছর পর আবারও ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।
বিদায়ী বক্তব্যে তিনি তার সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মজুরি বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবায় অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা কমানো, শ্রমিক ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে নেওয়া পদক্ষেপ।
তিনি জানান, লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি আগামী ৯ জুলাই থেকে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
স্টারমার তার উত্তরসূরিকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে বলেন, তিনি এমন একটি ব্রিটেনের দায়িত্ব নেবেন, যা দুই বছর আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও ন্যায়সংগত অবস্থানে রয়েছে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি স্ত্রী ভিক ও সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পর তিনি পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে চান।
পদত্যাগ করলেও নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্টারমার। এ বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাজ্যের দায়িত্ব নেবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।