*লুধুয়া মাদরাসা-ই-ইশা'আতুল উলূম এর ঐতিহ্য ধূলিসাৎ; ভোলার হুজুর-এর দুর্নীতির কবলে হাফেজ্জী হুজুরের স্মৃতি বিজড়িত প্রতিষ্ঠান*

Total Views : 48
Zoom In Zoom Out Read Later Print

*নিজস্ব প্রতিবেদক, লুধুয়া:* লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ৬নং কেরোয়া ইউনিয়নের লুধুয়া মাদরাসা-ই-ইশা'আতুল উলূম কেবল একটি ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম এবং বটগাছ মার্কার প্রবর্তক হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) এর স্মৃতিধন্য একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। নিজ গ্রামের মানুষদের দ্বীন শিক্ষার কথা ভেবে অত্যন্ত পরম মমতায় তিনি এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যুগের পর যুগ ধরে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার মানুষের কাছে এক ভরসার প্রতিক ও বটবৃক্ষের মতো ছাঁয়া দিয়ে আসছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে আজ সেই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি আবদুল্লাহ ওরফে ‘ভোলার হুজুর’-এর দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে প্রায়। *প্রতিষ্ঠাতার আদর্শের বিপরীত পথে বর্তমান নেতৃত্ব:* তথ্যসূত্রে জানা যায়, হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর হাতে গড়া এই মাদ্রাসার বর্তমান সর্বেসর্বা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে আবদুল্লাহ ওরফে ভোলার হুজুর। কিন্তু তিনি প্রতিষ্ঠাতা হুজুরের সেই পবিত্র আমানত রক্ষার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের আখের গোছানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজের নামে করে চলছে লুটপাট। মাদ্রাসার চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত অযোগ্য ও নিম্নমানের অপেশাদার এক নামমাত্র ঠিকাদারকে, যিনি মূলত ভোলার হুজুরেরই আত্মীয় বটে। অন্যদিকে দক্ষ ও পেশাদারী অনেক ঠিকাদার কম খরচে কাজ করতে চাইলেও হুজুরের ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে তাদের পাত্তা না দিয়ে হুজুরের আত্মীয়ের তবিয়তে কাজ পায় বর্তমান ঠিকাদার। *মাদ্রাসার অর্থে আত্মীয়দের ভোজন বিলাস:*_ এতিম ও মিসকিনদের দানের টাকায় গড়ে ওঠা এই মাদ্রাসায় আজ এক অদ্ভুত নিয়ম চলছে। দান করা খাসি ও গরুর মাংসের বড় একটি অংশ আপ্যায়নের জন্য চলে যাচ্ছে হুজুরের আত্মীয়-স্বজনদের পাতে। রোজার মাসেও এতিম ছাত্রদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার কেড়ে নিয়ে ভোজন বিলাস করানো হয় হুজুরের অনুসারীদের। অথচ ছাত্রদের কপালে জুটে কেবল পাতলা ডাল আর আলুর ভর্তা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হুজুরের এই অপকর্মগুলো তার গ্রামের বাড়ির লোকজনেরও অজানা নয়। _*১৫ হাজার টাকার বেতনের চাকরী; আড়ালে সম্পদের পাহাড়...*_

মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনের বাহিরে ভোলার হুজুরের আয়ের আর কোনো বৈধ উৎস নেই। এমনকি তিনি কোনো ওয়াজ মাহফিলেও যান না, নেই কোনো ব্যবসায়িক পরিচিতি। তবুও নিজ গ্রাম ও এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাহাড়। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। এই সামান্য বেতনের চাকুরী করা হুজুর রাতারাতি কীভাবে এতো বিত্ত-বৈভবের মালিক হলেন? এলাকাবাসীর ধারণা, মাদ্রাসাকে পুঁজি করে ভবন নির্মাণ কাজ ও ত্রাণ সামগ্রীর টাকা আত্মসাৎ করেই তিনি অবৈধ সম্পদের এই সাম্রাজ্য গড়েছেন।
_*প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে ত্রাসের রাজত্ব:*_
ভোলার হুজুর নিজেকে উপজেলা প্রশাসনের খুব কাছের মানুষ দাবি করে সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেন। তার দাবি অনুযায়ী রায়পুর থানা ও উপজেলা প্রশাসন তার হাতের মুঠোয়। এই দোহাই দিয়ে এলাকাবাসীর প্রতিবাদকেও তিনি যেনো পাত্তাই দিচ্ছেন না। কিন্তু হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিকে এভাবে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না বলে মনে করছেন স্থানীয় জনসাধারণ।
“ভোলা হটাও, মাদ্রাসা বাঁচাও”
বর্তমানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় মানসম্মত ভবন নির্মাণ যেখানে জরুরি, সেখানে নিম্নমানের ইট-বালু ও ছাত্রদের দিয়ে বেকার খাটিয়ে যে ভবন তোলা হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। লুধুয়ার সাধারণ মানুষ ও দানশীল ব্যক্তিরা এখন সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ। তাদের একটাই স্লোগান “ভোলা হটাও, মাদ্রাসা বাঁচাও”।
এখনই অযোগ্য ও অদক্ষ ঠিকাদারকে সরিয়ে পেশাদার দক্ষ ঠিকাদারের মাধ্যমে মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা প্রয়োজন। সেই সাথে ভোলার হুজুরের আয়ের উৎসসহ আর্থিক বিষয় তদন্ত করা না হয়, তবে এলাকার মানুষ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন।

See More

Latest Photos