যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান চুক্তি বর্জন করে সভাকক্ষ ছাড়লো

Total Views : 8
Zoom In Zoom Out Read Later Print

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে দেওয়া কঠোর হুমকির জেরে সুইজারল্যান্ডে চলমান উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা বর্জন করে সভাকক্ষ ত্যাগ করেছে ইরানের প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গালিবাফ বলেন, ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে অনিচ্ছুক ছিল এবং কেবল কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছিল। তবে আলোচনার মাঝপথে ট্রাম্পের নতুন হুমকির খবর পাওয়ার পর পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুধু ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আলোচক দলকেই নয়, প্রয়োজনে ইরানের মূল ভূখণ্ডে নতুন সামরিক হামলারও হুমকি দিয়েছেন। এর পরপরই মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় তেহরান।

 

গালিবাফ বলেন, তিনি ভ্যান্সকে স্মরণ করিয়ে দেন যে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী কোনো পক্ষই অপর পক্ষকে হুমকি দিতে বা সামরিক শক্তি প্রয়োগের ভয় দেখাতে পারবে না। তার মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই চুক্তির মৌলিক শর্তের সরাসরি লঙ্ঘন।

 

ইরানি স্পিকার আরও বলেন, হুমকি ও চাপের মুখে ইরান কখনো আলোচনা পরিচালনা করে না। এ অবস্থায় প্রতিনিধি দল বৈঠক সমাপ্ত ঘোষণা করে সভাকক্ষ ত্যাগ করে এবং পরে আর আলোচনায় ফিরে যায়নি।

 

তিনি জানান, বৈঠক ভেঙে যাওয়ার পর মার্কিন প্রতিনিধি দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানালেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা ইরানি দলের আবাসস্থলে গিয়ে পৃথক বৈঠক করেন।

 

গালিবাফ বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তেহরান তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো ধরনের সংলাপে বসার আগ্রহ নেই। পরে দুই দেশের মধ্যে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা প্রায় ৮০ মিনিট ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালান এবং একটি যৌথ কূটনৈতিক বিবৃতি প্রকাশ করেন।

 

এর আগে গত রোববার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তেহরানকে লেবাননে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনে আগের চেয়েও শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।

 

এ ছাড়া ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি বন্ধের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর গত ১৪ জুন কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফার শান্তি সমঝোতায় পৌঁছায়। পরে ১৮ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।

 

এই চুক্তির আওতায় লেবানন যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

See More

Latest Photos