বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের আচরণকে ‘অসহনীয় ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলের জয় দিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে স্পেনের শিরোপা জয়ের পর মাঠে তৈরি হওয়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতির তদন্ত করতে গত সোমবার একজন প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে শারীরিক হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ ছাড়া স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি দৌড়ে যাওয়ার সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা তার পেটে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্প্যানিশ পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘টিভিই’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উদযাপনের ব্যস্ততায় ঘটনার মুহূর্তে বিষয়গুলো আমার চোখে পড়েনি। তবে উঁচু মানের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এমন আচরণ সত্যিই অসহনীয় ও অগ্রহণযোগ্য—অথচ ম্যাচের আগের দিনগুলোতে আমি তাদের এবং তাদের দুর্দান্ত কোচের প্রশংসাই করেছিলাম।’ এদিকে, ফিফার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঠিক কতটুকু খতিয়ে দেখবেন কিংবা স্পেনের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বক্তব্য নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি সংস্থাটি।
আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সত্যিই অগ্রহণযোগ্য এমন আচরণ , অথচ ম্যাচের আগে তাদের প্রশংসা করেছিলাম
গত বুধবার (২২ জুলাই) স্পেনের দানি ওলমোর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়েলা। তবে এটিকে তিনি কোনো ঘুষি নয়, বরং কেবলই সাধারণ ধাক্কাধাক্কি ছিল বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা যে ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন স্প্যানিশ কোচ। তিনি বলেন, ‘এমন উস্কানি ও আগ্রাসনের মুখেও আমাদের ফুটবলাররা সবসময় মাথা ঠান্ডা রেখে প্রকৃত পেশাদারদের মতো আচরণ করেছে।’
উল্লেখ্য, পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে পদক নেওয়ার জন্য হেঁটে যাওয়ার সময় আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের সম্মান জানাতে স্পেনের খেলোয়াড়রা ‘গার্ড অব অনার’ দেন। তবে কিছুক্ষণ পর স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি ট্রফি উঁচিয়ে উদযাপনের মুহূর্তটিতে আর্জেন্টিনার বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই সেদিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়েছিলেন।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, বিশেষ প্রসিকিউটর যেকোনো সদস্য সংস্থা, ক্লাব কিংবা ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ বা প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেনি ফিফা। আগামী কয়েক মাসে আর্জেন্টিনার কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না থাকায়, সম্ভাব্য কোনো নিষেধাজ্ঞা কবে থেকে কার্যকর হবে—সেটাও এখনো স্পষ্ট নয়।