যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটির নতুন মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানির অংশগ্রহণ ঠেকাতে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ একটি অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন। তবে এ বিরোধিতার মধ্যেও মামদানি জানিয়েছেন, তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। আগামী সেপ্টেম্বরে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মূল স্থানে (গ্রাউন্ড জিরো) নির্মিত স্মৃতিসৌধে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মর্মান্তিক এই হামলার ২৫তম বর্ষপূর্তি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সমন্বিত হামলায় নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, ভার্জিনিয়ার পেন্টাগন এবং একটি যাত্রীবাহী বিমানসহ চারটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। প্রতিবছরের মতো এবছরও নিহতদের স্মরণে গ্রাউন্ড জিরোতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রথা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ও ফেডারেল সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই আয়োজনে অংশ নিয়ে থাকেন।
নিউ ইয়র্কের মেয়রকে চান না ৭০ হাজার মানুষ ৯/১১ স্মরণানুষ্ঠানে
তবে এবারের অনুষ্ঠানটি ঘিরে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হামলায় নিহতদের স্বজনদের একটি অংশ মেয়রের উপস্থিতির বিরুদ্ধে এই পিটিশনের উদ্যোগ নেয়। পিটিশনকারীদের দাবি, মেয়রের ধর্মের কারণে নয়, বরং তার বিতর্কিত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উগ্রপন্থীদের সঙ্গে কথিত সম্পর্কের কারণেই তারা এই বিরোধিতা করছেন।
গত মাসে চালু হওয়া পিটিশনটিতে মেয়রের কিছু অবস্থান ও সম্পর্ককে নিউ ইয়র্কের মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ব্রুকলিনের বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা সিরাজ ওয়াহাজের সঙ্গে মেয়রের যোগাযোগ এবং আল-কায়েদার বোমা হামলা চক্রান্তে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাবেক আইনজীবী রামজি কাসেমকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ের তীব্র সমালোচনা করা হয়। এছাড়া, মেয়রের বাবা মাহমুদ মামদানির ২০০৪ সালে প্রকাশিত বই ‘গুড মুসলিম, ব্যাড মুসলিম’-এ ৯/১১ হামলা সংক্রান্ত কিছু মন্তব্যের প্রসঙ্গও এতে টেনে আনা হয়েছে।
তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মামদানি এই পদক্ষেপকে উড়িয়ে দিয়ে এটিকে কিছু মানুষের তাকে স্মারক অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখার চেষ্টা বলে বর্ণনা করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনড় অবস্থানের কথা জানান।
মামদানি বলেন, “যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় আমাদের শহর চিরতরে প্রভাবিত হয়েছিল, এই বছরের ৯/১১ স্মারক অনুষ্ঠানে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আমি গর্বের সঙ্গে নিহতদের পরিবার, বেঁচে যাওয়া মানুষ এবং ফার্স্ট রেসপন্ডারদের সম্মান জানাব। আমরা আরো একবার নিশ্চিত করব যে, এই শহরকে যারা নিজেদের ঘর মনে করে, তাদের কেউই এই শোকের দিনটি কখনো ভুলবে না।”
এদিকে, নিহতদের স্বজনদের অপর একটি ছোট সংগঠন ‘সেপ্টেম্বর ১১থ ফ্যামিলিজ ফর পিসফুল টুমোরোজ’ মেয়রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রায় ২৫০ সদস্যের এই দলটি পিটিশনকারীদের বক্তব্যকে ‘ইসলামোফোবিক’ ও ‘আমেরিকাবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার বিরোধ নতুন করে চাড়া দিয়ে উঠেছে। মামদানি সম্প্রতি বলেছিলেন যে, নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক সফর করলে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। জবাবে নেতানিয়াহু মামদানির বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার এবং ‘নৈতিক ভণ্ডামির’ অভিযোগ তুলেছেন।
তথ্যসূত্র: আরটি