কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সাইবার নিরাপত্তার চিত্র দ্রুত ও উদ্বেগজনকভাবে বদলে দিচ্ছে। প্রচলিত সাইবার হামলাগুলোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি এআই নতুন ধরনের সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক হামলার সুযোগ তৈরি করছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এআইনির্ভর সাইবার অপরাধীদের সঙ্গে নিরাপত্তা খাত কতটা কার্যকরভাবে পাল্লা দিতে পারবে
এআই ভয়ংকর পরিবর্তন আনছে সাইবার নিরাপত্তায়
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন মডেল ব্যবহার করে সাইবার অপরাধীরা তুলনামূলক কম সময় ও শ্রমে ফিশিং, পরিচয়পত্র চুরি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক হামলা চালাতে পারছে।
এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে আরও বিশ্বাসযোগ্য ভুয়া বার্তা, কণ্ঠস্বর ও ভিডিও। ভয়েস ক্লোনিং ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নকল করে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে আগে যেসব সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক হামলায় দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ ও প্রস্তুতির প্রয়োজন হতো, এখন সেগুলোর অনেকটাই স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব হচ্ছে।
একই সঙ্গে এআই সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা খুঁজে বের করার সক্ষমতাও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন সফটওয়্যার ও সিস্টেমের ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করে সেগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে এআইনির্ভর ব্যবস্থা। এতে অনন্য বা নতুন ধরনের নিরাপত্তা দুর্বলতা আবিষ্কারের গতিও বাড়ছে।
শুধু অপরাধীরাই নয়, সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও প্রতিরোধে এআই ব্যবহার করছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে হুমকি শনাক্ত করা, সন্দেহজনক কার্যক্রম বিশ্লেষণ এবং আক্রমণের প্রতিক্রিয়া জানাতে এআইভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।
তবে বড় চ্যালেঞ্জ হলো-সাইবার অপরাধী এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হ্যাকারদের হাতে থাকা অর্থ, প্রযুক্তি ও সক্ষমতার সঙ্গে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা দ্রুত পাল্লা দিতে পারবে। এআইয়ের উন্নতির সঙ্গে সাইবার হামলার সক্ষমতাও বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতের সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।