রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি ও মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পরই রামিসা হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। হাইকোর্টে শুনানির জন্য ইতোমধ্যে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে। ফলে আদালতের কার্যতালিকায় আসার পর শুনানি শুরুতে আর বড় কোনো আনুষ্ঠানিকতা বাকি নেই।
রামিসা হত্যা মামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির
এর আগে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের জন্য সলিসিটরকে নির্দেশ দেন। পরে ২৫ জুন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আইনি লড়াই করতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী করা হয়।
গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সোহেলকে পাঁচ লাখ এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ের পর দুই আসামিকে কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়। পরে তারা দণ্ডের বিরুদ্ধে জেল আপিল করেন। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ৯ জুন পূর্ণাঙ্গ রায় ও ডেথ রেফারেন্সসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে পৌঁছায়।
পুলিশের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় এবং বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণের পর রায় ঘোষণা করা হয়।
এখন হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের জেল আপিল একসঙ্গে শুনানি হবে। শুনানিতে নিম্ন আদালতের রায়, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে উচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।