বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি সংবিধান লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, মৌলিক অধিকার হরণ, বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ, দুর্নীতি এবং গুরুতর অবহেলার মতো নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কিছু সরাসরি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে, আবার কিছু তার নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো অভিযোগ ওঠা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং উপযুক্ত আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে সংবিধান লঙ্ঘন বা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও আইনি বিধান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে। ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলো কয়েকটি ভাগে দেখা যায়। বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে। একই অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় দফায় সংবিধানকে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৭ক অনুচ্ছেদে অসাংবিধানিক পন্থায় সংবিধান বা এর কোনো বিধান বাতিল, স্থগিত কিংবা নাগরিকের সংবিধানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পরাহত করার উদ্যোগকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে বিবেচনার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধে প্রচলিত আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ দণ্ডের বিধান প্রযোজ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই সাংবিধানিক বিধানের আলোকে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন