বিশেষ প্রতিনিধি: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়। এ বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধও জানানো হয়েছে। ভারত বিষয়টি তাদের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন দুই দেশের সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর অধ্যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ-ই কি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে? বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে এর উত্তর হওয়া উচিত—না। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় থাকতেই পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি, পানি, সীমান্ত, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোও স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে নিতে হবে। পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য নির্ভর করে একই সঙ্গে একাধিক স্বার্থ পরিচালনার সক্ষমতার ওপর। একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে পুরো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সংকুচিত করে ফেলা কৌশলগতভাবে বিচক্ষণতার পরিচয় হতে পারে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের কূটনীতির পরিধি যদি এই একটি প্রশ্নকে ঘিরেই আবর্তিত হতে থাকে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে যেমন রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে, তেমনি রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার অসংখ্য ক্ষেত্র। ভারত হাসিনার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটির অপেক্ষায় বাণিজ্য, জ্বালানি, পানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কিংবা আঞ্চলিক যোগাযোগ থামিয়ে রাখা বাংলাদেশের নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধেই যাবে। পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্য সব জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়ার নাম নয়। বরং পরস্পরবিরোধী স্বার্থের মধ্যেও নিজের দেশের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা বের করে আনার নামই বাস্তববাদী কূটনীতি।
হাসিনার প্রত্যর্পণ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক তার চেয়েও বড়