বিশেষ প্রতিনিধি: সরকারের ছয় মাসের পথচলায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য—সবকিছুর সঙ্গেই ভারত সম্পর্কিত। ফলে আবেগ বা রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে বাস্তবতা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই এ সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এখন সেই কঠিন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোনো রাষ্ট্রই এককভাবে টিকে থাকতে বা এগিয়ে যেতে পারে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অপরিহার্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহাসিক ভিত্তি—‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি। অর্থাৎ কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রথম বিবেচ্য হতে হবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ। যে সম্পর্ক দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, বাংলাদেশকে সেই সম্পর্কই এগিয়ে নিতে হবে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বাস্তব সত্য হলো—প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না। প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেমন সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে, তেমনি বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথও প্রশস্ত করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তাই অন্য অনেক দেশের তুলনায় আলাদা। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত, অভিন্ন নদী, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের কারণে ভারতকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক কখনো উষ্ণ হয়েছে, কখনো আবার নানা কারণে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ভারত প্রশ্নে আবেগ নয়, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে