সউদী আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে গঠিত নতুন প্রতিরক্ষা জোট ‘মক্কা চুক্তি’তে যোগ দিতে ইরানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।২৩ আগস্ট ইরানি সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পার্লামেন্টের সংবাদ সংস্থা খানেহ মিল্লাতের প্রধান মেহদি রহিমি এ দাবি করেন। রহিমি বলেন, ইরান মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা বলে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের আমন্ত্রণ পাওয়ার দাবি নতুন ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’
তবে ইরানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং চুক্তির তিন সদস্য সউদী আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে আপাতত বিষয়টি একজন ইরানি কর্মকর্তার দাবির মধ্যেই সীমিত রয়েছে।
গত ৭ আগস্ট সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ন্যাটো জোটের ‘আর্টিকেল ৫’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, চুক্তিটি ইরান বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি।
চুক্তির সদস্যরা ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সামরিক কমান্ড পর্যায়ে সমন্বয়ের বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মন্ত্রী ও সামরিক কমান্ডারদের বৈঠক, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা।
তুরস্ক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও দেশকে এই নিরাপত্তা জোটে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে মিসরের নামও প্রকাশ্যে এসেছে।
মক্কা চুক্তির বিষয়ে ইরান এর আগে সতর্কভাবে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে। গত ১০ আগস্ট ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট গঠন নিয়ে তেহরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি তুলে ধরে।
ইরানকে আমন্ত্রণ জানানোর দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে এর তাৎপর্য হতে পারে। সউদী আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত জোটে ইরান যুক্ত হলে এর পরিধি ও রাজনৈতিক চরিত্র আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তথ্যসূত্র: জেরুজালেম পোস্ট