হানাফি মাজহাব থেকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিযুক্তের দাবি লিংকনকে সরিয়ে মধুপুর পীর সাহেবের

Total Views : 9
Zoom In Zoom Out Read Later Print

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত ট্রান্সজেন্ডার বান্ধব শ্রম আইন বাতিল এবং 'হিজবুত তৌহিদ' নিষিদ্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক আল্লামা আব্দুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব)। একইসাথে ‘লা-মাজহাবী’ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনকে সরিয়ে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ হানাফি মাজহাবের অনুসারী কোনো যোগ্য আলেমকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের এই নায়েবে আমীর। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আল্লামা আব্দুল হামিদ এ দাবি জানান। সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নানান সমসাময়িক বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরকারের প্রতি একাধিক দাবি পেশ করেন।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করে মধুপুর পীর সাহেব বলেন, ‘‘ইউনুস সর্বস্বান্ত করে দিয়ে গেছে অল্প কয়দিনের মধ্যে, ইউনূস আইসে সর্বনাশ করে রেখে গেছে দেশকে।" জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ট্রান্সজেন্ডার বান্ধব শ্রম আইনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি সরকারকে এ ধরনের আইন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, পুরুষ নারী হওয়া বা নারী পুরুষ হওয়া কোনো ধর্মেই (ইসলাম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, ইহুদি) স্বীকৃত নয়।

 

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) হলেন হকের মাপকাঠি। যারা সাহাবায়ে কেরামকে মানে না, তারা ইসলামের শত্রু, ভণ্ড ও প্রতারক। এ দলটির প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর ভাবধারার জামায়াত কখনো ইসলামের প্রকৃত কাজ করেনি। তিনি নির্বাচনের আগে 'রোজা-পূজা সমান' মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণের বিষয়ে কেন মুসলমান ও আলেমরা চুপ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

 

দেশে ৯০ ভাগ মানুষ হানাফি মাজহাবের অনুসারী উল্লেখ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের এই নায়েবে আমীর বর্তমান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ও আকিদা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, হানাফি মাজহাবের বাইরের লোক বা 'লা-মাযহাবী' আকিদার কাউকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বসানোয় দেশে বিভ্রান্তি ও অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সরকার ও ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান এবং হানাফি মাজহাবের অনুসারী কোনো যোগ্য আলেমকে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে উপহার দেওয়ার দাবি জানান।

 

‘‘আমি অনুরোধ করব, আমি বা আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত হানাফী মাযহাবের লোক। আমাদের শতকরা ৯০ ভাগ হানাফী। হানাফী মাজহাবের একজন ভালো আলেমকে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী দেওয়া হোক’’, দাবি জানান তিনি।

 

আল্লামা আব্দুল হামিদ (মধুপুরী পীর সাহেব) আরও জানান, নবনিযুক্ত ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর পক্ষে বারবার তাঁর সাক্ষাৎ ও দাওয়াত নিয়ে একাধিকবার লোক পাঠানো হলেও তিনি এই সপ্তাহে কথা না বলে আগামী সপ্তাহে কথা বলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ও বিভ্রান্তি এড়াতে তিনি যেন অবিলম্বে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজের আকিদা ও অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি পরামর্শ দেন যে, (ধর্ম প্রতিমন্ত্রী) নিজে 'হানাফী মাযহাবের অনুসারী এবং লা-মাযহাবী নন' মর্মে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিলে সব বিভ্রান্তির নিরসন হবে এবং উদ্ভূত সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান ঘটবে।

See More

Latest Photos