সুড়ঙ্গে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ৯ দিন: “সবাইকে বাঁচাতে গিয়েই আমার সময় ফুরিয়ে গেল”

Total Views : 27
Zoom In Zoom Out Read Later Print

নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ

পাহাড়ি ঢল আর ভূমিধসের ভয়াল থাবায় নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ। শুক্রবার নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকার ‘ত্রিশূলী-৩এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে তাঁকে ও কবির মহারজন নামের আরেক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করে নেপালি সেনা বাহিনী। তবে জীবন বাঁচাতে নিজে দৌঁড় না দিয়ে সহকর্মীদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন বাজি রাখার এই গল্প এখন পুরো বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজে আটকা পড়লেন সঞ্জয়

সপ্তরী জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় সাহ ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকক্ষ বা কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী উপত্যকায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধস আঘাত হানার মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে সঞ্জয় জানান, যখন সবাই হুড়োহুড়ি করে পালানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন মেকানিক্যাল ফোরম্যান হিসেবে তাঁর ওপর অন্য কর্মীদের জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব বর্তায়।

উদ্ধারকারী মেডিক্যাল টিমকে সঞ্জয় জানান, “আমি সবাইকে দ্রুত দৌড়ে সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছিলাম। কিন্তু অন্যদের নিরাপদ স্থানে পাঠাতে গিয়ে আমার নিজের বের হওয়ার সেই মূল্যবান সময়টুকু আর হাতে ছিল না। ফলে আমি সুড়ঙ্গের ভেতরেই আটকা পড়ে যাই।”

সুড়ঙ্গের ভেতরে কাটানো বিভীষিকাময় দিনগুলো

অন্ধকার সুড়ঙ্গে টানা ৯ দিন কাটিয়ে দেওয়া ছিল এক অসম্ভব লড়াই। উদ্ধারের অপেক্ষায় প্রতি মুহূর্তে ঈশ্বরকে স্মরণ করার কথা জানিয়ে সঞ্জয় বলেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে তাঁর কাছাকাছি ৩ থেকে ৪ জন মানুষের গলার আওয়াজ ও উপস্থিতি তিনি টের পেয়েছিলেন। তবে সুড়ঙ্গটি অত্যন্ত দীর্ঘ হওয়ায় এবং আকস্মিক বন্যার পানির তীব্র স্রোত অনেককে আরও ভেতরের দিকে বা পাওয়ার হাউস এলাকার দিকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

গত ২৬ আগস্টের আকস্মিক সেই বিপর্যয়ের পর টানা ৯ দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অবশেষে শুক্রবার কাঠমান্ডুর বাসিন্দা কবির মহারজনসহ সঞ্জয় সাহকে সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। এই উদ্ধারকে চিকিৎসকরা ‘অলৌকিক’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করার এই সাহসিকতা এখন সব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

See More

Latest Photos