সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের হাফেজ ক্বারী মাহমুদুল হাসান আশরাফী। তাঁর এ সাফল্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোরআন শিক্ষায় বাংলাদেশের জন্য নতুন গৌরবের ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। অসাধারণ এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ৬০ লাখ টাকা পুরস্কার।
বাংলাদেশি হাফেজ মাহমুদুল হাসান সৌদিতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয়
হাফেজ ক্বারী মাহমুদুল হাসান আশরাফী দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও তিনি ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছেন।
হাফেজ শেখ মাহমুদুল হাসান আশরাফী এনটিভির জনপ্রিয় কোরআন ভিত্তিক রিয়েলিটি শো পিএইচপি কোরআনের আলো-২০২১-এর তৃতীয়স্থান অধিকারী হন। দেশের সেরা হাফেজদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি অর্জন করলেন গৌরবময় তৃতীয় স্থান।
তাঁর অর্জনের তালিকায় আরও রয়েছে ২০২৩ সালে অস্ট্রিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান এবং ইরানে তৃতীয় স্থান। ২০২৪ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান এবং ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায়ও প্রথম স্থান অর্জন। সর্বশেষ সৌদি আরবে ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে আবারও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এই কোরআনের হাফেজ।
মাহমুদুল হাসান আশরাফী নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার মারকাজুল মদিনার শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা হাফিজ ইমামুল হোসেন মাশরাফী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় একের পর এক সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে মাহমুদুল হাসান আশরাফী বাংলাদেশের কোরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা ও প্রতিভাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছেন।
তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পবিত্র কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা, দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি উস্তাদদের দিকনির্দেশনা। মহান আল্লাহর অনুগ্রহকে এ সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
হাফেজ ক্বারী মাহমুদুল হাসান আশরাফীর ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সাফল্য তাঁর পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।