যশোর মনিরামপুরে স্ত্রীর পরকীয়ার বলি হলেন স্বামী।

Total Views : 49
Zoom In Zoom Out Read Later Print

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের মনিরামপুরে স্ত্রীকে এক প্রবাসী যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কয়েকদিন পর আব্দুল্লাহ মিথুন (২৮) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মিথুন ওই গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি প্রায় ১০ বছর আগে মধুপুর গ্রামের সাথী (২৬)কে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তাঁদের ছয় ও চার বছর বয়সী দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মিথুনের প্রতিবেশী সুমন কয়েক বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। তাঁদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই পরিচয় ছিল। একপর্যায়ে সুমনের সঙ্গে মিথুনের স্ত্রী সাথীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবারের দাবি। বিষয়টি জানতে পেরে মিথুন স্ত্রীকে অনেক বুঝিয়েও সম্পর্ক থেকে ফেরাতে পারেননি। সাথীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার ধোপাদি এলাকার একটি কাজি অফিসে সুমনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এ সময় মিথুন নিজেই উপস্থিত ছিলেন এবং কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। সাথী দাবি করেন, মিথুনের চাপেই তিনি ওই বিয়েতে রাজি হন। মিথুনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পল্লিচিকিৎসক মুবাশশের আল মুবিন জানান, মৃত্যুর তিন দিন আগে মিথুনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। তখন মিথুন মানসি*কভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং ফোনে কারও কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাইছিলেন। মিথুন তাঁকে জানিয়েছিলেন, পারিবারিক চাপ ও নানা সমস্যার কারণে তিনি স্ত্রীকে অন্য একজনের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। মিথুনের মা রওশনারা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে স্ত্রী মানসিকভাবে চাপ দিতেন। রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটা*কাটি হয়। পরে সাথী এসে জানান, মিথুন আত্মহত্যা করেছেন। তবে মিথুনের পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে সাথী বলেন, রাতে কথা-কাটা*কাটির একপর্যায়ে মিথুন নিজেই গ*লায় গামযছা দিয়ে ঘরের আ*ড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।

মিথুনের মৃত্যুর পর সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে জানান তাঁর ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন। তাঁর দাবি, মিথুন ও সুমনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। মরদেহের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়না তদন্তের পর জানা যাবে।

See More

Latest Photos