ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো, রাডার ব্যবস্থা ও একাধিক ডেটা সেন্টার লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে তাসের (TASS) এক প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মঙ্গলবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত রাতে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর রসদ সরবরাহ কেন্দ্র, পরিবহন ব্যবস্থা, বন্দর অবকাঠামো এবং সেনাকাজে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক আঘাত হানা হয়েছে। হামলা পরিচালনায় 'গেরান' (Geran) ড্রোন এবং যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে রাশিয়া।
রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা ইউক্রেনজুড়ে : রাডার ও ডেটা সেন্টার ধ্বংস
হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ:
রাডার ও ডেটা সেন্টার ধ্বংস: পোলতাভা অঞ্চলের মিরগোরোদ এবং ওডেসা অঞ্চলের কাগোরলিক এলাকায় ইউক্রেনের দুটি মূল রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে রুশ ড্রোন। এছাড়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত পার্কোভি, ইউক্রটেলিকম, গিগাবাইট ও পোডোলস্কি নামের চারটি প্রধান ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
বন্দর ও সামরিক গুদাম: ওডেসা অঞ্চলের ইলিয়িচেভকা এলাকায় একটি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া চেরনোমোর্স্ক বন্দরে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ এবং ইজমায়েল বন্দরে সেনাসামগ্রী খালাসের জেটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যান্য হামলা: দোনেৎস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ন্যাশনাল গার্ডের একটি অস্থায়ী ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়। এছাড়া ১০ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় স্টারলিঙ্ক মডিউলযুক্ত একটি ইউক্রেনীয় নজরদারি বেলুন ড্রোন দিয়ে ধ্বংস করার দাবি করেছে রুশ বাহিনী।
কিয়েভ ও দানিপ্রো অঞ্চলের পরিস্থিতি:
রুশ হামলার প্রভাবে দানিপ্রো নদীর ওপর তৈরি একটি সেতু বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কিয়েভ-মনোনীত প্রশাসনিক কর্মকর্তা খ্যইয়েভস্কি। এছাড়া রাজধানী কিয়েভের অমেগা টেলিকম ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিক, সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরের পর কিয়েভ জুড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন বলে ইউক্রেনীয় পার্লামেন্ট সদস্য আন্না স্কোরোখোদ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সূত্র: তাস।