চট্টগ্রাম বন্দরের নিরবচ্ছিন্ন মুনাফার রেকর্ড অতিক্রমকারী নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় ছেড়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দুবাইভিত্তিক বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর)। মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা রেখে কমপক্ষে ১৫ বছরের জন্য এনসিটি ইজারায় বা কনসেশনে পেতে যাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ড কোম্পানি
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দিতে চুক্তি স্বাক্ষর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল বৃহস্পতিবার
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানী ঢাকায় ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যদিও পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে গোপনীয়তার সাথে। এমনকি চুক্তিতে কি কি শর্ত থাকবে সবকিছুই গোপন রাখা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের অতিউৎসাহী কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা চুক্তির প্রক্রিয়ায় তড়িঘড়ি আয়োজন চালিয়ে আসছেন।
ঝটিকা বেগে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে চুক্তির বিষয়বস্তু জনসমক্ষে এবং জাতীয় সংসদে এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর ভবন এবং বন্দর বোর্ড মিটিং এড়িয়ে চুক্তির প্রক্রিয়া গত প্রায় দুই বছর ধরে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ১৫ নভেম্বর'২৫ ইং ড. ইউনূস সরকার আমলে রাজধানী ঢাকায় একটি হোটেলে গোপনে তড়িঘড়ি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয় এবং চট্টগ্রাম বন্দর লালদিয়ার চর টার্মিনাল এবং পানগাঁও টার্মিনাল দুটি বিদেশি কোম্পানির কাছে দীর্ঘ মেয়াদি ইজারা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক, বন্দরের মুনাফার টাকায় নির্মিত হয় প্রধান স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। নৌবাহিনীর ঘাঁটি ঘেঁষে প্রতিষ্ঠিত এনসিটি স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও গতিশীলতার সাথে পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড।
নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হলে চট্টগ্রাম বন্দরে হাতে আর কোনো আধুনিক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ টার্মিনাল থাকবে না।
ফ্যাসিস্ট পলাতক হাসিনা আমলে চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক কন্টেইনার টার্মিনালগুলো বেছে বেছে শেখ পরিবার এবং আওয়ামী অলিগার্ক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে ২০২৩-২৪ সালে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এরপর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন ড. ইউনূসের সরকারের আমলে বাস্তবায়নের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালানো হয়।
তবে তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূস সরকার বাধ্য হয় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে।
অবশেষে হাসিনা-ড. ইউনূস সরকার আমলের ধারাবাহিকতায় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি ঘাড়ে এসে জগদ্দল পাথরের মতোই চেপে বসেছে জনগণের নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সময়ে। এ নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি, প্রতিবাদ, ক্ষোভ-অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।
আন্দোলনরত বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের নেতারা গত ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর মেইন গেইটে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে বলেছেন, ৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে সাথেই চট্টগ্রাম বন্দর অচল হয়ে যাবে। তার দায়দায়িত্ব চেয়ারম্যানকেই বহন করতে হবে।
চুক্তির বিষয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক বন্দর সিবিএ সেক্রেটারি কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, গায়ের জোরজবরদস্তি করে নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ছেড়ে দিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাছাড়া ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে।
বন্দর ডক শ্রমিক কর্মচারী ও দেশের সচেতন নাগরিক মহল এহেন বিতর্কিত চুক্তি স্বাক্ষর মেনে নেবে না।
আজ ৭ অক্টোবর বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম স্কপ এবং বন্দর রক্ষা কমিটি ও বিভিন্ন আন্দোলনরত সংগঠন ও জোটের নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।