কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কুলসুমা আক্তার (২২) হত্যার ঘটনায় মামলার সাত দিন পর অভিযুক্ত মো. ইরফানকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উখিয়ার কুতুপালংয়ের মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শিশুর পাশে মাকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ, সাত দিন পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে গ্রেফতার ইরফান
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইরফান কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর বাসিন্দা। তিনি মৃত লেদু হোসেন ও জরিনা খাতুনের ছেলে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর মডেল থানার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর কক্ষের ওয়াশরুম থেকে কুলসুমার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হোটেল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, ইরফান ও কুলসুমা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুই বছর বয়সী একটি শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ওই কক্ষে উঠেছিলেন। পরে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মমতাজ বেগম শিশুর কান্না শুনে কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় ওয়াশরুমে কুলসুমার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
হত্যা মামলা ও গ্রেফতার
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে ইরফানকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছিল। ১ অক্টোবর নিহতের পরিবারের সদস্যরা ইরফানকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার ইরফানকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আদালতে তোলার পর জিজ্ঞাসাবাদ
নিহত কুলসুমা কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পূর্ব চান্দেরঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলমের মেয়ে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ঈদগাঁওয়ের চাক্কার দোকান এলাকার হারুনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে বিরোধের জেরে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন কুলসুমা। ওই মামলার শুনানির দিন থাকায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার শহরে আসেন।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, স্বামীর সঙ্গে বিরোধের পর ইরফানের সঙ্গে কুলসুমার সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে অন্য এক যুবকের সঙ্গে কুলসুমার সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে ইরফান ক্ষুব্ধ ছিলেন বলেও সূত্রটি দাবি করেছে। ঘটনার দিন হোটেলকক্ষে মোবাইল ফোনে আসা একটি কল নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী ইরফানের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতে তোলার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হবে।