সৌদি আরবের স্থিতিশীলতা ও হারামাইনের নিরাপত্তায় ঢাকায় ইসলামি স্কলারদের সেমিনার

Total Views : 38
Zoom In Zoom Out Read Later Print

পবিত্র মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারার পবিত্রতা, নিরাপত্তা এবং সুউচ্চ মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী ও মৌলিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন শীর্ষস্থানীয় ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকরা। তাঁরা সতর্ক করে বলেন, হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্ভূত যেকোনো হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সুরক্ষায় গোটা মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ সংহতি প্রকাশের বিকল্প নেই।

শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ‘হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও মর্যাদায় মুসলিম উম্মাহর করণীয়’ শিরোনামে এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশ’ আয়োজিত এই গুরুত্ববহ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।

সেমিনারে দেশের খ্যাতনামা ইসলামি স্কলারদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মানযুর এ ইলাহী, প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া, প্রফেসর ড. মুসলেহুদ্দীন, অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ফারুক, ড. শহীদুল্লাহ খান মাদানী, ড. মুহাম্মাদ নুরুল্লাহ, শাইখ জাহিদ হাসান মাদানী, ড. ইব্রাহিম আব্দুল হালীম ও ড. আব্দুল বাছিরসহ অন্যান্য বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা উল্লেখ করেন, পবিত্র হারামাইন শরীফাইন নির্দিষ্ট কোনো ভূখণ্ডের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বের কোটি কোটি তাওহীদি জনতার আবেগ, অনুভূতি ও বিশ্বাসের কেন্দ্রস্থল। তাই এসব পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহকে পারস্পরিক সচেতনতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আলেমগণ বলেন, বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ করে রকেট ও ড্রোন হামলা আঞ্চলিক শান্তির জন্য বড় হুমকি। বেসামরিক অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও জ্বালানি খাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূলনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা কেবল আঞ্চলিক শান্তিকেই বিঘ্নিত করে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলে।

মুসলিম বিশ্বকে বিভেদ ভুলে ঐক্য, সংহতি ও আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, যেকোনো সংকট নিরসনে আবেগপ্রবণ না হয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বিজ্ঞ আলেমরা বলেন, এ দেশের আলেম-উলামা, খতিব, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে, যেন কেউ উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেয়। একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক ও নীতিগত সমর্থন জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

সেমিনার থেকে পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা সুসংহত করতে ওআইসি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের প্রতি কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর তাগিদ দেওয়া হয়।

পরবর্তী যেকোনো খসড়া বা খবরের পুনর্লিখন প্রয়োজন হলে নির্দ্বিধায় টেক্সটটি পাঠাতে পারেন!

See More

Latest Photos