দেশ গড়ার কাজ করতে হবে: সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী

Total Views : 29
Zoom In Zoom Out Read Later Print

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সব ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে নয়, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রংপুরের ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলে দেশ স্বাধীন করেছে। এখন সবাইকে মিলে-মিশে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া।

তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমরা খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। খুব শিগগিরই কৃষক কার্ড চালু করা হবে। ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্যও মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মহল সবসময় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অতীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষ তা ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। একইভাবে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকেও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কিছুদিন যাবত আমরা দেখছি আমরা যেই ঐক্যটি তৈরি করতে চাচ্ছি, সরকার সকলকে নিয়ে যেখানে চলতে চাইছে, একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

 

তিনি বলেন, আমি সকলকে সাথে নিয়ে, গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই, আপনারা কেউ চব্বিশের ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেটিকে দয়া করে বিতর্কিত করবেন না।

 

তিনি কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে সংসদে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের সংসদে পাঠিয়েছে। সেখানে বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে জনগণ এবং রাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

 

সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে বিএনপি ও তার প্রার্থীদের কারা ভোট দিয়েছেন, কারা দেননি- সেটা কোনো বিবেচ্য নয়। আমরা দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়, এই সরকারকে যে ভোট দিয়েছে তারও সরকার হতে চায় এই সরকার, যে ভোট দেয়নি তার জন্যও এই সরকার হতে চায়।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব এলাকার উন্নয়ন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে সুষমভাবে করতে চাই। এর অংশ হিসেবে রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে গত দুই সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজ নির্মাণের বিষয়ও রয়েছে। তিনি এসব উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিভিন্ন ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অতীতে সব সময় ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে দেশ স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেছিল। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল।

 

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৪’র আন্দোলনেও দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। ভবিষ্যতেও যেন সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সে পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। আগামী দিনে আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই, তাহলে আমাদের সকল ধর্ম ও মতের মানুষকে একসাথে দেশের জন্য কাজ করে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।

 

দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণ দেশে স্থিতিশীলতা চায়, শান্তি ও নিরাপদে থাকতে চায়। সরকারও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। এজন্য তিনি আবারও দল, মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

শেষে তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

 

প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর থেকে রংপুর ধর্মসভায় (রাধা গোবিন্দ) মন্দিরে পৌঁছালে মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রংপুর জেলার সভাপতি রাম জীবন কুন্ডু, রংপুর মহানগর পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় ও সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

 

এর আগে তিনি সামরিক বিমানযোগে সৈয়দপুর আসেন। সেখান থেকে সড়কপথে রংপুরে আসেন। এ সময় রাস্তার দু’ধারে লক্ষ লক্ষ জনতা তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। পথিমধ্যে তিনি তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন। সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজের সামনে আসলে শিক্ষার্থীদের দেখে তিনি গাড়ি থামিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের আবদার রাখতে তাদের সঙ্গে সেলফি তোলেন ও অটোগ্রাফ দেন। এ সময় তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির খোঁজখবর নেন।

 

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই রংপুর ও নীলফামারীতে চলে আনন্দের জোয়ার। দেখা দেয় দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাঁর আগমনের অপেক্ষায় সকাল থেকে রাস্তার দু’ধারে লক্ষ লক্ষ জনতার ঢল নামে। নগরীর প্রধান সড়কের দু’ধারে সকাল থেকে লক্ষ লক্ষ উৎসুক জনতা পতাকা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। নগরীর পায়রা চত্বর থেকে প্রেসক্লাব এলাকা পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারের ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ দোকান বন্ধ রেখে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন তাঁর আগমনের।

 

তিনি যখন আসেন রাস্তায় অপেক্ষামান জনতা মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন গোটা নগরী। ফুল ছিটিয়ে তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। এ সময় তারেক রহমানও হাত নেড়ে উৎসুক জনতাকে অভিবাদন জানান।

See More

Latest Photos