গাজীপুরের টঙ্গীস্থ ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা’য় সাত বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে হট্টগোল, লাঞ্ছনা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার এবং মাদ্রাসায় হামলার পৃথক দুটি মামলায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
টঙ্গীতে শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ: শিক্ষক আটক, মাদ্রাসায় হট্টগোল ও পাল্টাপাল্টি মামলা
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উক্ত মাদ্রাসার খণ্ডকালীন শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। শিশুর বাবা স্থানীয় বাসিন্দা এবং কিছু সংবাদকর্মীদের সাথে নিয়ে মাদ্রাসায় যান। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মাদরাসা অধক্ষের রুমে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে চুমু দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলে ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা তাঁকে চড় মারেন। পরবর্তীতে উপস্থিত জনতা অভিযুক্তকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এই সম্পূর্ণ ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।
ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি সামাজিক ও ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভিন্ন মাত্রা পায়। কিছু আলেম ও একাংশের ব্যক্তিরা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং ক্যামেরার সামনে শিক্ষককে চড় মারার বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়ে অপরাধের স্বীকারোক্তি দেওয়া শিক্ষকের আইনি সুরক্ষার পক্ষে অবস্থান নেন। পক্ষান্তরে, দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সিংহভাগ ব্যবহারকারী (নেটিজেন) ভুক্তভোগী শিশু ও তাঁর বাবার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিশুটির পরিবারের দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, ঘটনার জের ধরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ একটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মাওলানা ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরীর দাবি, বহিরাগত ১০ থেকে ১৫ জন লোক জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং জমি কেনার জন্য গচ্ছিত রাখা নগদ ১৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। তবে শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় উপস্থিত বাসিন্দারা লুটপাটের অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
অধ্যক্ষ আরও স্পষ্ট করেন যে, অভিযুক্ত মোসলেম উদ্দিন একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন, উপাধ্যক্ষ নন। তিনি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অর্থ লুটের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
ঘটনার সার্বিক বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, “শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সাথে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে মূল সত্যতা উদ্ঘাটন ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”