জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আলোচনা

Total Views : 35
Zoom In Zoom Out Read Later Print

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানো, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন।

সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা, শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তাঁর টোকিও পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন।

সফরের প্রথম দিন সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে তাঁর অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে:

• জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক।

• নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজে অংশগ্রহণ।

সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। শীর্ষ বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন।

আলোচনায় ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানো, ঋণের সুদের হার হ্রাস এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্প সময়মতো সম্পন্ন করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। একই দিন প্রধানমন্ত্রী জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (JERA)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করবেন।

সফরের তৃতীয় দিন ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে:

• জেবিআইসি গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জাপানের পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক।

• জেট্রো প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়া।

• মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক।

• জাপানের ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দলীয় বৈঠক।

বিকেলে টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

সফরের শেষ দিন ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন। সেখানে তিনি টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা এবং টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি টোকিও ফিরে সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন এবং বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা সফর করছেন।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২৬-৩১ মেয়াদে জাপানের সঙ্গে ১২টি খাতে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলো হলো:

• পরিবহন ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থা: ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার।

• সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র: ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার।

• উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাত: ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার।

• জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তর: ১.২৬ বিলিয়ন ডলার।

• জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো: ৯৪০ মিলিয়ন ডলার।

• অন্যান্য (কৃষি, ওষুধশিল্প, আইসিটি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন ও ক্ষুদ্র শিল্প): ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার।

See More

Latest Photos