কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের ৫৬৭ সদস্যও রয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৯৯৭, কিশোর গ্যাংয়ের ৫৬৭ সদস্য আটক
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৮৪ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৭৭ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ২৮ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ১১ জন এবং ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ৩৮ জন রয়েছেন। এ ছাড়া পরোয়ানাভুক্ত ১১৬ জন এবং সাজা পরোয়ানাভুক্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ মাদক
অভিযানে মাদকসংক্রান্ত মামলায় ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন মাদক বহনকারী এবং ৫০ জন মাদকসেবী। পাশাপাশি নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৪০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মাদকসংক্রান্ত অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৯২।
মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ হাজার ৯০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং ৩৭টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ সময় পুলিশ ১১ হাজার ৬৫২ পিস ইয়াবা, ৩৯ কেজি ৬৭৫ গ্রাম গাঁজা, ১২৪ লিটার চোলাই মদ, আট বোতল বিদেশি মদ, ১৬ ক্যান বিয়ার, ৭৫ বোতল স্কাফ সিরাপ এবং ৭০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ১১ সদস্য গ্রেপ্তার
অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রামে একজন, কুমিল্লায় তিনজন, চাঁদপুরে একজন, নোয়াখালীতে তিনজন, ফেনীতে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৫৬৭ জন
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫৬৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৮৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ১৮১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে ১১০ জন, কক্সবাজারে ১৫ জন, কুমিল্লায় ১৯৭ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪১ জন, চাঁদপুরে ৪৬ জন, নোয়াখালীতে ৩৯ জন, ফেনীতে ১২ জন, লক্ষ্মীপুরে ৬৮ জন, রাঙামাটিতে ২০ জন, খাগড়াছড়িতে ৯ জন এবং বান্দরবানে ১০ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
জনস্বার্থে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।