সরকার জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে চায় সরকার। তারই অংশ হিসেবে ফ্যামলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর এক মাসের কম সময়ের মধ্যে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছে। আমরা কৃষক কার্ডের কাজও শুরু করেছি। আগামী মাসের মধ্যে বহু কৃষক ভাইয়ের মাঝে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
জনগণের কাছে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ, স্মরনীয় ও ঐতিহাসিক দিন। প্রত্যক্ষ ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাই সরকার জবাবদিহি করতে বাধ্য। নারীদের স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়ন করতে পারলেই এগিয়ে যাবে দেশ। প্রথমে পাইলট প্রকল্প হাতে নিতে হয়েছে। করাইল ও ভাষানটেকের ১৫ হাজার নারীকে কার্ড দেয়া হয়েছে।
বক্তব্যের আগে কড়াইল, সাত তলা বস্তি ও ভাষানটেকের ১৫ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তারেক রহমান।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৪ কোটি নারীর কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে অনুষ্ঠানে জানান সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড আজ স্বপ্ন নয়। ফ্যামিলি কার্ড আজ সবার দোরগোড়ায়। ফ্যামিলি কার্ড একটি ভরসার নাম, আস্থার নাম।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় সরকার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে উপকারভোগী পরিবারগুলোকে ভাতা দেবে। ভাতা দেওয়া হবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। তারা ঘরে বসেই ভাতা পাবেন।
পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলো হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।