কৌশলে নগ্ন ভিডিও ধারণ ব্যবসায়ীকে আটকে , চাঁদা দাবি

Total Views : 4
Zoom In Zoom Out Read Later Print

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মো. শহিদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক মোটরসাইকেল পার্টস ব্যবসায়ীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নারীর সঙ্গে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ ও মারধর করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত ইসমাইল নামের একজনকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকালে আদালতে হাজির করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে পিরোজপুর জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ‌্যায় পৌর শহরের নিউমার্কেট এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

​ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বর্তমানে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এসময় মো. ইসমাইলকে (৫০) ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করেন। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মো. ইসমাইল ও মো. মনাকে (৪৭) নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আটককৃত ইসমাইল উত্তর মিঠাখালী মাঝেরপুল গ্রামের মৃত সোনাইমুদ্দিন হাজীর ছেলে এবং আসামী মনা দাউদখালী ইউপির চালিতাবুনিয়া গ্রামের। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, মিরুখালী বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকার প্রয়োজন ছিল। তার দোকানের প্রতিবেশী পানের দোকানদার মনা তাকে লাভসহ টাকা এনে দেওয়ার আশ্বাস দেন। গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় শহিদুলকে টাকা দেওয়ার কথা বলে ইসমাইলের নিউ মার্কেটের বাসায় নিয়ে আসে। বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই বিবাদীরা দরজা বন্ধ করে দেয়। সেখানে আগে থেকেই ২ জন অজ্ঞাত মহিলা ও ২ জন পুরুষ অবস্থান করছিল। তারা তাকে জোরপূর্বক উলঙ্গ করে ওই মহিলাদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। এরপর এলোপাতাড়ি মারধর ও কিলঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। ওই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। 

এসময় ইসমাইল শহিদুলের কাছে থাকা নগদ ৯,৫৪০ টাকা জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। প্রাণের ভয়ে শহিদুল তার বোনের কাছে ফোন করে টাকা চাইলেও তাৎক্ষণিক টাকা না দিতে পারায় আরও মারধর করে এবং ১৫০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা আটক রাখার পর শ‌হিদু‌লের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রেখে দিয়ে রাত ৮টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় শ‌হিদুল মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস যুগান্তরকে জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছেন। বা‌কি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে

See More

Latest Photos