পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে নিজ নিজ এলাকায় যাচ্ছেন বিএনপি সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তারা। খোঁজ-খবর নেবেন বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের। সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরবেন দলীয় সরকারের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বার্তা। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর ‘অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি’র বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করবেন দলটির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঈদ করার নির্দেশ মন্ত্রী-এমপিদের নিজ নিজ এলাকায়
নেতারা জানান, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি তাদের দ্বিতীয় ঈদ। এর আগে গত দেড় দশকে স্বাভাবিক পরিবেশে ঈদ করতে পারেননি তারা। মামলা, হামলা ও রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেকেই এলাকামুখী হতে পারেননি। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বেশির ভাগই এখন নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝেও বাড়তি উচ্ছ্বাস কাজ করছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতাদের কয়েকজন জানান, সরকারের মেয়াদ ইতোমধ্যে তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। এখন নির্বাচনকালীন দেওয়া প্রতিশ্রুতির কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। ঈদের সময়ে প্রত্যেকেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করবেন। কুশল বিনিময় করে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথা জানতে চাইবেন নেতারা। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, সে বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করা হবে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতাদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। ঈদের আনন্দ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে বলা হয়েছে সবাইকে। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের এলাকায় গিয়ে সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদারেরও নির্দেশ রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতা নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে গেছেন। অনেকে আবার ঢাকায় ঈদের নামাজ শেষে রওনা দেবেন। স্থানীয় পর্যায়ে ঈদ পুনর্মিলনী, শুভেচ্ছা বিনিময় ও গণসংযোগ কর্মসূচির প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, এবারের ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষে তৃণমূল নেতাদের বিশেষভাবে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমসহ মাঠপর্যায়ে সরকারের বিরুদ্ধে ‘গুজব বা অপপ্রচার’ মোকাবিলায় কাজ করবেন তারা। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে।
দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, ঈদের এই জনসম্পৃক্ততাকে রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তায় রূপ দিতে চায় বিএনপি। আর সে কারণেই কেন্দ্রীয় নেতাদের এলাকামুখী হওয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা নাটোরে জনগণের সঙ্গে ঈদ উদযাপন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করব। এ ছাড়া জনগণকে দেওয়া সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরব। যাতে জনগণ জানতে পারে গত তিন মাসে সরকার কী কী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করেছে এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা কী। পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে– তা গণসংযোগের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে।
দলীয় ও সরকার সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য এবং মন্ত্রিসভার সিনিয়র মন্ত্রীরা এবার ঢাকায় ঈদ করবেন। এদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান এবং সমাজকল্যাণ ও মহিলা শিশুবিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
অন্যদিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। এ ছাড়া বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন।