বাংলাদেশের নতুন অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন আর বাজেটের আকার নয়, বরং এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে দেখা গেছে, ঘোষিত বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়িত হয় না। উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনের ভেতরে জমে থাকা অনিশ্চয়তা বাজেট বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউনূস সরকারের রেখে যাওয়া 'অবসাদ' ও আমলাতান্ত্রিক দেওয়াল: বাজেট বাস্তবায়নে মূল বাধা
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকারের সময় প্রশাসনে যে ধরনের সতর্কতা, অপেক্ষা-মানসিকতা ও সিদ্ধান্তহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সরকারের বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তাদের মধ্যে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা বেড়েছে, ফলে প্রকল্প অনুমোদন থেকে শুরু করে অর্থ ছাড়—সব ক্ষেত্রেই গতি কমেছে। প্রশাসনিক এই ‘অবসাদ’ বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
অন্যদিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা ‘রেড টেপ’ দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরও প্রকট। একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একাধিক মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের অনুমোদনের প্রয়োজন হওয়ায় সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে। ফলে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে অগ্রসর হতে পারছে না।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে রাজস্ব আহরণ ও উন্নয়ন ব্যয়ের উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গতি না এলে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট বাস্তবায়নের সাফল্য নির্ভর করবে শুধু অর্থ বরাদ্দের ওপর নয়; বরং প্রশাসনের কর্মদক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার ওপর। আমলাতান্ত্রিক দেওয়াল ভেঙে প্রশাসনে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করতে না পারলে উচ্চাভিলাষী বাজেটও কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
#ইউনূস_সরকার #বাজেট২০২৫_২৬ #বাজেট_বাস্তবায়ন #আমলাতান্ত্রিক_জটিলতা #বাংলাদেশ_অর্থনীতি #উন্নয়ন_প্রকল্প #প্রশাসনিক_সংস্কার #জাতীয়_বাজেট #অর্থনীতি #DoinikBanglardak