মহাসচিবের কার্যালয় জানায়, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সর্বশেষ পোর্ট-অ-প্রিন্স সফরের পর, এবার তিনি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সেখানকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলবেন। জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। সহিংসতায় জর্জরিত হাইতির মানুষের প্রতি সংহতি জানাতে মঙ্গলবার দেশটি সফরে যাচ্ছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে ভোগা দরিদ্র ক্যারিবীয় দেশটিতে গ্যাং সহিংসতার শিকার মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিব সহিংসতায় বিপর্যস্ত হাইতিতে যাচ্ছেন
মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি সরাসরি দেশের মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং হাইতির জনগণকে সহায়তায় জাতীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টাও দেখবেন।’
আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হাইতি বহু বছর ধরে অস্থিরতায় ভুগছে। শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশটিতে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত আর ৫০ লক্ষাধিক মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে রয়েছে। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে নিরাপত্তা সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সে সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক সহিংসতায় দেশের অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হন। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হয় একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওই কাউন্সিলের মেয়াদ শেষ হলে নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এমের হাতে ন্যস্ত হয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ২০১৬ সালের পর থেকে হাইতিতে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
-বহুমাত্রিক সংকট-
গত বছর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ নতুন একটি আন্তর্জাতিক গ্যাং দমন বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেয়। এই বাহিনীর দায়িত্ব হবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা। নতুন বাহিনী ধীরে ধীরে হাইতির পুলিশকে সহায়তাকারী আগের বহুজাতিক মিশনের স্থলাভিষিক্ত হবে। পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও অর্থের অভাবে ওই মিশন সমালোচনার মুখে পড়েছিল। ফারহান হক বলেন, গুতেরেস হাইতির ‘বহুমাত্রিক সংকট’ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন। এর মধ্যে গ্যাং দমন বাহিনীকে দেওয়া লজিস্টিক ও পরিচালনাগত সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ফিলস-এইমের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন নতুন গ্যাং দমন বাহিনী। একই সঙ্গে তিনি দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধে হাইতির কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘হাইতিতে চলতি বছরের শুরু থেকে গ্যাং সহিংসতায় অন্তত ২ হাজার ৩০০ জন নিহত, ১ হাজার ১০০ জন আহত ও ৯৯ জন অপহৃত হয়েছেন। দায়মুক্তি মোকাবিলায় বিচারিক ইউনিটগুলোকে দ্রুত সক্রিয় করার জন্য আমি কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি।’