নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা ও কৌশল চূড়ান্ত করতে সচিব পর্যায়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে এই সভা হয়। বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন ও বিভিন্ন সার্ভিস কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করা হয় এবং নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের আইনি দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
১ জুলাই থেকে নবম পে স্কেল কার্যকর, বর্ধিত বেতন মিলতে পারে অক্টোবরে
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জুলাই থেকে কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্টোবর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আগামী ২৪ জুন কমিটির পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। এই নতুন কাঠামোর আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
বর্তমানে মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ ইনসেনটিভ দেওয়া হচ্ছে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে তা আর আলাদাভাবে থাকবে না। এই সুবিধা নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন অস্থায়ী ভাতার পরিবর্তে মূল বেতন বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য অবসর-পরবর্তী সুবিধাগুলোর পরিমাণও বাড়বে। হিসাব অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের কার্যকর বেতন প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন প্রায় ৩৫ শতাংশ বাড়তে পারে।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এই খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ বাড়লেও, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য থোক বরাদ্দ হিসেবে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা আলাদা করে রাখা হয়েছে। বর্তমানে অর্থ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি ও বিধি সংশোধনের মতো আনুষ্ঠানিক কাজগুলো সম্পন্ন করছে।