ফরিদপুরে ডিবি, হেফাজতে নেওয়ার পর যুবকের মৃত্যু,

Total Views : 7
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ফরিদপুরের গোয়েন্দা (ডিবি)পুলিশের হাতে মধুখালী থেকে আটক হওয়া মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্ত (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার প্রায় পাঁচ ঘন্টা পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। রবিবার (২১ জুন) সকালের দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

নিহত ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত মির্জা এসকেন্দার হায়দারের ছেলে। তিনি ফরিদপুর ল কলেজের ছাত্র ছিলেন।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রির অভিযোগে

ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্তকে আটক করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুরে এনে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখার হাজতে রাখা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

নিহত মির্জা ইশতিয়াকের পরিবার সুত্রে জানা যায়, শনিবার সারারাত পরিবারের সদস্যরা মধুখালী থানা, ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ইশতিয়াকের কোন হদিস পাননি। পরে শনিবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল থেকে খবর পেয়ে ইশতিয়াকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারেন।

ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার বলেন, ইশতিয়াককে আটকের সময় তার দেহ তল্লাশি করে মাদক জাতীয় কোন দ্রব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিবি পুলিশ বাড়ির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করে বিন্দুমাত্র মাদক সামগ্রি উদ্ধার করতে পারেনি। তবে শুনেছি পুলিশ তিন পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের দাবি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, কোন অপরাধে আমার সুস্থ নিরিহ ছেলেকে ধরে নিয়ে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হইলো, আমি এ হত্যার বিচার চাই।

মির্জা ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্তের চাচা ও মধুখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মির্জা আবু জাফর বলেন, শনিবার দিনগত গভীর রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাদের বাড়ি থেকে প্রান্তকে আটক করে। পরে সকালে তারা জানতে পারেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, আটকের ঘণ্টা খানেক পর প্রান্ত হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত তাকে প্রথমে জেনারেল হাসপাতালে পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মধুখালী এলাকা থেকে গাঁজাসহ আটক এক আসামি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী বলেন, হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও সিটিস্কানে দেখা যায়, প্রান্ত ব্রেনস্ট্রোকের শিকার হয়েছেন। তার মাথায় বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন বা নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মির্জা মোহাম্মদ ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত নামের একজন আসামীকে তার বাড়ি থেকে মাদকসহ জেলা গোয়েন্দা শাখা ধরে নিয়ে আসে। তাকে আমাদের কাস্টডিতে রাখা হয়। পরবর্তীতে আমাদের কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থতা বোধ করলে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে ট্রিটমেন্টে থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জাতীয় কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আমরা প্রাথমিকভাবে এটা এনসিওর (নিশ্চিত) করেছি যে তার শরীরে কোন ধরনের জখম ছিল না। আমাদের পুলিশের হেফাজতে কোন ধরনের এখানে তাকে আঘাত করা বা এরকম কিছু ঘটনা করা হয়নি। আমরা আমাদের ইন্টার্নাল (অভ্যন্তরীণ) একটি ইনকয়ারি (তদন্ত) করব।

See More

Latest Photos